জানা কিছু ঘটনার পিছনের অজানা মজার কিছু তথ্য
বেশ কিছু মজার ঘটনা–যা নিতান্তই স্বাভাবিক বিজ্ঞান সম্মত। কিন্তু আমরা হয়তো সেভাবে সেগুলিকে ভাবি না বা নজর দিই না। এরকম বেশ কিছু মজার মজার ঘটনা, (যার তথ্য সূত্র অবশ্যই ইন্টার নেট বা উইকি বা ব্রিটানিকা এন্সাইক্লোপিডিয়া ) বেছে বেছে নিয়ে হাজির করলাম আপনাদের জন্য। এর মধ্য বেশ কিছু জিনিস হয়তো অনেকের জানা, কিন্তু এটি ঠিক ঈশপের গল্পের মত, জানা জিনিস আর একবার জেনে নিতে দোষ কি! যদি না সেটা আমার বা আপনাদের পূর্বের ডেটাবেস কে আমাদের মস্তিষ্কের মেমরি থেকে উড়িয়ে না দেয়। আসুন এক এক করে মজার বিষয়গুলিকে আলোচনা করি –
১। যদি আমরা আমাদের পায়ের তলায় একখন্ড পেঁয়াজ অর্ধেক করে কেটে নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ঘষি তাহলে কিছুক্ষণ পরেই আমরা সেই পেঁয়াজের স্বাদ অনুভব করতে পারব। মজার ব্যাপার না!
এবার দেখে নিই এর পেছনে কি বিজ্ঞান কাজ করছে? আসলেই বিষয় টি অত্যন্ত সহজ – যদি আমরা পেয়াজ টি কে বেশ কিছুক্ষণ ধরে পায়ের নীচে ঘষি তাহলে পেঁয়াজের রস আমাদের ব্লাড ভেসেলের মাধ্যমে রক্তস্রোতে মিশে যায়। আর আমরা জানি যে রক্ত হল সংযোজক কলা যা রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে দেহের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সবশেষে টেস্ট বাড বা স্বাদ কোরোকের সংস্পর্ষে আসলেই আমরা তার স্বাদ অনুভব করতে পারি।
২। সবথেকে বেশীদিন পানি না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে আমাদের পরিচিত এমন এক প্রাণী – এমন প্রাণীর নাম বললেই আমাদের কার কথা মনে পড়ে? অবশ্যই মরুর জাহাজ উটের কথা। এর ব্যাখ্যাও আমরা কম বেশী জানি। একদম ছোট বেলায় জানতাম উটের পিঠের কুঁজের মধ্যে থাকে পানি– আর আর একটু বড় হয়ে শিখেছি – উটের পিঠের কুঁজ আসলে চর্বি পিন্ড যার মূল উপাদান ফ্যাটি অ্যাসিড আর গ্লিসারল এবং এর অক্সিডেশনের ফলে উট তার প্রয়োজনীয় পানি তৈরী করে ও তার পানির চাহিদা মেটায়। কিন্তু মজার ব্যাপার হল সব থেকে বেশীদিন পানি না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রানী অবশ্যই উট নয় – সেটি হল জিরাফ। একটি ঊটের থেকে একটি জিরাফ আরো বেশী দিন পানি না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।
৩। এটিও একটি মজার বিষয় কিন্তু আমরা হয়তো সেভাবে পর্বেক্ষণ করিনা বা করিনি। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে যে সকল মানুষ ডান হাতি ( রাইট হ্যান্ডেড ) হন তারা যখন খাবার চিবোন তখন সাধারনত মুখের ডান দিকে খাবার টিকে চিবোন। আর যারা বাঁ হাতি তাদের মধ্য একটি স্বাভাবিক প্রবনতা থাকে মুখের বাঁ দিকে খাবার চিবানোর। তবে এখানে একটি ব্যাতিক্রম রয়েছে যাদের দাঁতে পোকা বা দাত না থাকা বা দূর্বল দাঁতের সমস্যা রয়েছে তাদের অভ্যাস গত কারনে এর পরিবর্তন হতে পারে।
৪। আমরা হাসতে গেলে অনেকেই কৃপণতা করি। আরে ভাই ভুললে চলবে “Smile Costs nothing but pays everything ”- এতো গেলো জ্ঞানের কথা এবার আসি বিজ্ঞানে – বিজ্ঞান বলছে হাসলে আমাদের শরীর স্ট্রেস হরমোন গুলির ক্ষরণ সীমীত হয় ও অনাক্রমন তন্ত্র বা ইমিউন সিস্টেম আরো বেশী সক্রিয় হয়। আর মজার ব্যাপার কি জানেন ? তথ্য সূত্রানুসারে – একটি ৫ বা ৬ বছরে শিশু সারা দিনে গড়ে ১৫০ থেকে ৩০০ বার হাসে আর উলটো দিকে একজন পূর্ণ বস্ক মানুষ সেখানে গড়ে দিনে ১৫ থেকে ১০০ বার হাসে। তাহলেই বুঝে নিন রোগ ব্যাধির ক্ষেত্রে কারা বেশী ভালনারেবল?
৫। ডালমেশিয়ান কুকুরের কথা আমরা কম বেশী সকলেই জানি, বা হয়তো নাম না জানলেও অনেকেই ছবিতে দেখেছি। ডালমেশিয়ান প্রজাতির কুকুরের কথা বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সাদার উপর কালো বড় বড় ছোপ ছোপ দাগ। কিন্তু আবার একটি মজার তথ্য উপস্থাপন করছি সেটি কি? সেটি হল জন্মের পরে কিন্তু ডালমেশিয়ান কুকুরের গায়ে একটিও ছোপ দাগ থাকে না – একদম ধপধপে সাদা। বিশ্বাস হচ্ছেনা? তাহলে নিজেই দেখে নিন।
৬। বাদুড় কে আমরা সবাই জানি বা চিনি। বাদুড় বললেই হয়তো মনে পড়ে যায় রোম খাড়া করা কোন ভুতের ছবি বা গল্প বা হয়ত ব ব্যাট্ ম্যান এর কথা। আমরা বাস্তবে বা সিনেমায় বা ছবিতে বা গোয়েন্দা উপন্যাসে বহূ বার এরকম দেখেছি যে একটা পোড়ো বাড়ি বা ঘরের কপাট খুললেই সশব্দে কতগুলি বাদুড় উড়ে গেল, বা কোনো গূহা বা কন্দর থেকে বাদুড় বেরিয়ে সাঁ করে ঊড়ে গেল। কখনো কি সেই ঊড়ার গতিপথ নিয়ে ভেবেছি ? নাহ্। কিন্তু কিছু পাগলল বিজ্ঞানী অবশ্যই রয়েছেন যারা এইসব নিয়ে দীর্ঘ দিন গবেষনা ( গরু খোঁজা ) চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তাদের রিসার্চের ফলেই ঊঠে এসেছে অবিশ্বাশ্য তথ্য সেটি হল। পৃথীবীর সব বাদুড়ই যখন কোনো গুহা , ফোঁকোর বা বন্ধ ঘর ( এক কথায় কনফাইন্ড এরিয়া ) থেকে বের হয়, সর্বদাই প্রথমেই বা দিকে টার্ণ নিয়ে ওড়ে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না, ঠিক আছে পারলে একবার একটা পোড়ো বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে দেখে নিও। তবে একটা পরামর্শ একা একা না গিয়ে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারো।
৭। এটা হয়তো এখন কার ছেলে মেয়েরা অনেকি জানেন, কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি জানতাম না তাই শেয়ার করলাম। জেন্টস গারমেন্টস বা পুরূষদের জামার বোতাম থাকে ডান দকে আর লেডিজ গারমেন্টস বা মেয়েদের পোষাকের জামার বোতাম থাকে বাঁ দিকে। না জানা থাকলে অবশ্যই মজার।
৮। পক্ষীকূলে আমাদের চেনা অচেনা যত পাখী রয়েছে তাদের মধ্যে পেঁচা–ই হল একমাত্র পাখী যারা চোখ বন্ধ করার সময় চোখের উপরের পাতা (আপার আই লিড ) কে নীচে নামিয়ে চোখ বন্ধ করে বা পলক ফেলে। আর সমস্ত পাখীরাই ছোখের নীচের পাতা বন্ধ করে অর্থাৎ লোয়ার আই লিড কে ওপরে তুলে চোখ বন্ধ করে।
৯। ও ও ওহফ হ্যাচ্ছো …।। হ্যাচ্ছো হ্যা…চ্ছো। কি জানি লিখতে লিখতে নাকের মধ্যে কি একটা ঢুকে গিয়ে। শুরু হল হাঁচি। সরি। আছা হাঁচির কথা যখন এসেই গেল তখন বলেই ফেলি – আমরা যতবার হাঁচি ততবার আমাদের মস্তিষ্কের বেশ কিছু কোষ মারা যায় । কি বেশ অবাক ব্যাপার না? তবে ভয়ের কিছু নাই– এই হারে ব্রেন সেল মারা যেতে থাকলে একদিন তো ঘটে আর কিছুই থাকবে না। না না অত ভয় পেয়ো না। আমাদের ব্রেনের গ্লিয়াল সেল গুলি থেকে আবার রিপ্লেনিশ হয়ে যায়।
১০। Honey বা মধু – হানি – এটি যেমন উপাদেয় তেমনি পুষ্টি কর একটি খাবার। সেই প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত সকল শ্রেনীর মানূষের মধ্যে তাদের খাদ্য তালিকার অন্যতম একটি খাদ্য উপাদান হল মধু। মধুর সবথেকে বড় গুন হল এটি অত্যন্ত সহজ পাচ্য। এর কারন কি জানা আছে ? কারন হল – It has already been digested by a bee. আরে আরে তা বলে কি মধু খাবো না? না না মোমাছি অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জীব।
১১। সকাল বেলায় প্রহর ঘোষনা করে কে? কার ডাকে আমাদের ঘুম ভাঙ্গে? কি? কাক? আরে আরে না না। একেবারে রঙ ট্র্যাক ধরে ফেলেছো। আসলে আমি বলতে চেয়েছিলাম মোরোগের কথা। মোরোগের ডাক আমরা সবাই শুনেছি বা বা মোরোগ কে আমরা সবাই ডাকতে দেখেছি। কেমন সুন্দর গলা ঊঁচ্চিয়ে কঁকর কঁ করে ডাকে। হ্যা এর মধ্যে মজার তথ্য টা কোথায়? আছে আছে এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নাই। তাহলে বলেই ফেলি – গলা উঁচু না করলে মোরোগ ডাকতেই পারবেনা। কেউ কি কখনো মরোগ কে গলা না উঁচু করে ডাকতে দেখেছো? না দেখনি। এর কারন তাদের ভোকাল কর্ডের অবস্থান গত বিন্যাস। কি অত্যন্ত চেনা ঘটনার একটু অচেনা দিক?
১২। সমুদ্রের নীল পানি রাশির সামনে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা অপার দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশের দিকে অনেক্ষণ চেয়ে থাকলে মনটা দেখবে বেশ শান্ত হয়ে যায় । তোমরা বলবে হ্যা এটার মধ্যে নতুন কি খোজার চেষ্টা করছেন ? এতো প্রকৃতির দান –তার বিশালতা । অবশ্যই সত্য । কিন্তু এর পেছনের বিজ্ঞান টা হল – আমাদের বর্ণালির নীল রঙের একটা বিশেষ প্রভাব রয়েছে। নীল রঙ আমাদের মস্তিষ্কের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে – এবং কামিং হরমোন (calming hormones) গুলিকে নির্গত করতে উদ্দী[পনা যোগায়। যা আমাদের মনটা কে অনেকটা শান্ত করে দেয়। Calming Hormones হল Stress Hormones এর ঠিক উল্টো কাজ করে
১৩। ইংরেজী শব্দ ভান্ডারে একমাত্র শব্দ হল CLEAVE যার দুটি সমার্থক শব্দ হল ADHEAR ও SEPARATE যারা আবার একে অপরের বিপরীতার্থক শব্দ ।
from Breaking Kolkata http://bit.ly/2Dfys49
Labels:
Entertainment



No comments: