এরই নাম প্রেম প্রেমে পড়া ভাল। কিন্তু প্রেমে প্রতারণা?
নিশ্চয়ই বলবেন, প্রতারণার চেয়ে খারাপ একটি প্রেম সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর কী-ই বা হতে পারে? কিন্তু একটি প্রেমে এমন কিছু অবস্থা তৈরি হতে পারে যা আসলে প্রেমে প্রতারণার চেয়েও খারাপ। জেনে নিন এমনই কিছু বিষয়ের কথা—
১. নিছক সুবিধাজনক বলেই একটি সম্পর্ক রক্ষা করে চলা একটি সম্পর্কে যখন জড়িয়ে পড়েছি, তখন একটু অসুবিধা হলেও তাতেই লেগে থাকি না কেন? তা না হলে আবার নতুন প্রেমিক/প্রেমিকা খোঁজো, তার সঙ্গে ভাব জমাও, তাকে ইমপ্রেস করো, দুরুদুরু বক্ষে তাকে প্রোপোজ করো… ওহ, সে অনেক হ্যাপা! তার চেয়ে যা চলছে, চলুক। প্রেমজীবনে এমন নেতিয়ে পড়া মনোভাবের চেয়ে প্রতারণাও ভাল।
২. দু’জনের মধ্যে স্বচ্ছন্দ সংযোগের অভাব
একসঙ্গে দু’জনে সময় কাটাচ্ছেন অনেকটা। ফোনে কথা বলছেন কয়েক ঘন্টা করে। কিন্তু বারবার যেন মনে হচ্ছে, মন খুলে মনের কথা যেন কিছুতেই বলে উঠতে পারছেন না সঙ্গীকে। নিজের সুখ-দুঃখ, সমস্যাগুলো যেন ভাগ করে নিতে পারছেন না তার সঙ্গে। তাহলে বুঝতে হবে, প্রতারণার চেয়েও খারাপ কিছু ঘটে যাচ্ছে আপনাদের সম্পর্কটিতে।
৩. সঙ্গীকে মিথ্যে বলা বা তার কাছে কিছু গোপন করা
অনেক সময়েই কি নিছক অশান্তির ভয়ে বা সঙ্গী দুঃখ পাবে এমন আশঙ্কায় তার কাছে গোপন করছেন কোনও কথা, বা মিথ্যে বলছেন সময়বিশেষে? অথচ যে মানুষটিকে আপনি সবচেয়ে ভালবাসেন, তার কাছেই তো আপনার সবচেয়ে সৎ থাকার কথা। তেমনটা না হলে বুঝতে হবে, রিলেশন মে কুছ কালা হ্যায়।
৪. সঙ্গীর মত মেনে নিতে অসুবিধা বোধ করা
আপনি যখন গজল শুনতে চাইছেন তখন সে চাইছে রক। আপনার ইচ্ছে চাইনিজ খাওয়ার অথচ সে মোগলাই ছাড়া মুখে তুলবে না। মতের এমন অমিল হলেই কি আপনি ভয়ানক চটে যাচ্ছেন, চোটপাট শুরু করছেন প্রেমিক/প্রেমিকার উপর? এমন অবস্থা হলে সেই সম্পর্ককে কি খুব সুস্থ সম্পর্ক বলা যায়? অন্যের মতকে গুরুত্ব দিতে শেখা কিন্ত একটা সফল প্রেম সম্পর্কের একবারে গোড়ার কথা। তেমনটা যদি না হয় তাহলে আপনি প্রেমে প্রতারণার চেয়েও খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে চলেছেন।
৫. রাগ আর আবেগকে মনে পুষে রাখা
আপনি কোনও ভগবান বা ভূত নন যে আপনার কখনও রাগ বা দুঃখ কিছু হবে না। আর রাগ হলে সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ অত্যন্ত আবশ্যক। যদি অশান্তির ভয়ে রাগকে মনের ভিতরেই দমিয়ে রাখতে হয় তাহলে নিশ্চয়ই সঙ্গীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক খুব মসৃণ নয়। সেটা প্রতারণার চেয়েও খারাপ।
৬. সন্দেহ হলে তা নিয়ে আলোচনার বদলে অভিযোগ করা
আপনার বয়ফ্রেন্ড আপনার প্রতি জন্মদিনে আপনাকে সবার আগে উইশ করে। কিন্তু এ বছর করল না। এমনকী আপনার জন্মদিনে উইশ করতেই বেমালুম ভুলে গেল হয়তো। আপনি একরাশ অভিমান নিয়ে মাঝরাতে তাকে ফোন করে সরাসরি শুরু করলেন তুমুল ঝগড়া। ভেবে দেখুন, সরাসরি রণরঙ্গিনী মূর্তি ধারণ করার আগে আপনার ভালবাসার মানুষটিকে কি আপনার একবার জিগ্যেস করা উচিৎ ছিল না যে, সে কোনও সমস্যায় পড়েছে কি না, কিংবা সে কি দুশ্চিন্তায় আছে খুব? এ বছর যে সে আপনার জন্মদিনটি ভুলে গেল তার নিশ্চয়ই কারণ আছে কোনও। সেই কারণটি বোঝার চেষ্টা না করে সরাসরি তার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা যদি শুরু করেন তাহলে বুঝে নিন, প্রেমে প্রতারণার চেয়েও খারাপ কিছু ঘটে যাচ্ছে আপনাদের সঙ্গে।
৭. কোনও কিছু প্রয়োজন হলে তা সরাসরি বলতে না পারা
যে কোনও সাহায্যের দরকার হলে নিজের সঙ্গীকে তা সরাসরি বলতে পারাই সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ। তেমনটা হওয়ার পরিবর্তে যদি নিজের কোনও প্রয়োজনের কথা বলতে হাজার রকমের ধানাই-পানাই করতে হয় আপনাকে তাহলে বুঝে নিন, আপনি এই সম্পর্কে মোটেই স্বচ্ছন্দ নন।
৮. কেবল পারস্পরিক নির্ভরযোগ্যতার কারণেই কেবল একটি সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখা
আপনি বুঝতে পারছেন আপনাদের দু’জনের মধ্যে আর কোনও ভালবাসা নেই, মরে গেছে সব প্রেম। কিন্তু তা সত্ত্বেও সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রেখেছেন কেবল ‘ওর’ ওপর নানা কাজে আপনাকে নির্ভর করতে হয় বলে। এমন অবস্থায় পড়ার থেকে প্রেমে প্রতারিত হওয়াও ঢের ভাল।
৯. স্বচ্ছতার অভাব অনুভব করা
ভালবাসার সম্পর্ক যত স্বচ্ছ হবে তত দৃঢ় হবে বন্ধন। নিজের প্রয়োজন, সুবিধা-অসুবধা, প্রত্যাশা— সব মন খুলে জানান সঙ্গীকে। তা জানানোর মতো অবস্থা যদি না থাকে তাহলে, জেনে রাখুন, আপনাদের মধ্যে প্রকৃত ভালবাসার অভাব আছে।
১০. সঙ্গীর প্রতি নিজের ভালবাসা জানাতে অস্বচ্ছন্দ বোধ করা
মনে রাখবেন, আপনার সঙ্গী অন্তর্যামী নন। আপনি যদি তাঁকে না জানান যে আপনি তাঁকে কতটা ভালবাসেন তাহলে তাঁর পক্ষে বোঝা কঠিন যে তাঁর প্রতি আপনার ভালবাসা কতটা গাঢ়। কাজেই নিজের ভালবাসার কথা মন খুলে তাঁকে জানান। আর যদি তা না পারেন? তাহলে আর কী, মনে মনে হাহাকার করে বলুন, এর চেয়ে যে প্রেমে প্রতারিত হওয়াও ছিল ভাল!
চোখের পলকে কিংবা মিষ্টি হাসিতেই মানুষ প্রেমে পড়ে যায়। প্রেম আসে ঝড়ের মতো, লণ্ডভণ্ড করে দেয় হৃদয়। তবে সম্পর্ক চলা অবস্থায় বোঝা যায়, কে ভালো আর কে মন্দ। অনেক সময় মানুষ ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে যায়।
এমন সম্পর্ক কিন্তু চিরস্থায়ী হলে ফলাফল খারাপ হতে পারে। কাজেই সম্পর্ক যে অবস্থাতেই থাকুক, ভুল-শুদ্ধ যাচাই করে নিতে ভুলবেন না।
কীভাবে বুঝবেন আপনি ভুল মানুষের প্রেমে পড়েছেন, সে বিষয়ে বিশদ বৃত্তান্ত দিয়েছে মেনজএক্সপি ওয়েবসাইট। এক নজরে দেখে নিন এখনই :
১. আপনি হয়তো তাকে মন দিয়ে ভালোবেসেছেন। তার জন্য সবকিছু করছেন, যা অন্য কেউ তার জন্য করবে না। অথচ বিনিময়ে সে আপনার জন্য কিছু করা দূরের কথা, ততটা গুরুত্বই দিচ্ছে না। তখন বুঝে নিতে হবে, মানুষটি আপনার জন্য ভুল ছাড়া আর কিছু নয়।
২. আপনি সত্যিকার অর্থে কেমন মানুষ, এটা তার সামনে প্রকাশ করতে পারছেন না। তার ইচ্ছানুযায়ী নিজেকে প্রকাশ করছেন। আপনি মনে করছেন, সত্যিকারের আপনাকে সে মেনে নিতে পারবে না। যার সঙ্গে নিজেকেই পরিচয় করিয়ে দিতে সাহস পাচ্ছেন না, তার সঙ্গে বাকি জীবনটা কীভাবে কাটাবেন? যে আপনাকেই মেনে নিতে পারবে না—সে আপনার আচরণ, আপনার কাজ, আপনার চিন্তাকে মেনে নেবে কী করে? তাই এমন মানুষ থেকে দূরে থাকাই ভালো।
৩. আপনার সঙ্গীর মধ্যে আপনার জন্য আবেগ অনেক কম। সে একটু দূরত্বই পছন্দ করে। আপনি অনেক কিছুই হয়তো তার জন্য করছেন; কিন্তু তার আচরণ দেখলে মনে হয় না সে আপনাকে ভালোবাসে। এমন মানুষকে জীবনসঙ্গী না করাই ভালো।
৪. আপনার জীবনে কী ঘটছে, কী ঘটছে না—এটা জানার বিন্দুমাত্র আগ্রহ তার নেই। সে জানে না বা জানতে চায় না আপনি জীবন থেকে কী চান, নিজের জীবনকে কীভাবে সাজাতে চান। মূলত সে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। আপনার কথা ভাবার তার সময় নেই। এমন মানুষের জন্য আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট না করাই ভালো।
৫. সে আপনার কথা মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করে না। অথচ নিজের কথা আপনাকে পুরোটাই বলে এবং সে কাজই করে, যেটা নিজে চায়। আপনার চাওয়া না-চাওয়াকে কোনো গুরুত্ব সে দেয় না। এ ধরনের মানুষকে বেশিদিন পাত্তা দিলে কিন্তু ঠকতে হবে আপনার।
৬. আপনাদের সম্পর্ক হয়তো অনেক দিনের। কিন্তু এখনো আপনি তার সম্বন্ধে অনেক কিছু জানেন না। কিছু কিছু বিষয়ে সে এখনো রহস্য করে। নিজের মধ্যেই রাখতে চায়। যে মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করে না, তাকে ভালোবেসে কী-ই বা আছে!
৭. আপনি হয়তো সারাক্ষণই তার খোঁজখবর নিচ্ছেন, কিন্তু তার আপনাকে নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। আপনি কী করছেন, কী করছেন না—এগুলো নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই। যার জীবনে আপনি আছেন কি নেই—এই অনুভূতি কাজ করে না, সে কখনোই ভালো জীবনসঙ্গী হতে পারে না।
৮. তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আপনি খুব বেশি আনন্দ অনুভব করেন না। মনে হয় যেন, রুটিন অনুযায়ী দেখা করতে এসেছেন। শুধু চিন্তা করেন, যতটুকু সময় আছেন কোনো ঝগড়া না, কথাকাটাকাটি না করে সময়টা পার করে দিতে পারলেই হয়! মনে রাখবেন, এমন পরিকল্পনা করে কখনোই সম্পর্ক হয় না।
৯. কোনো খুশির সংবাদ বা দুঃখের সংবাদ তার কাছে বলে আপনি খুব একটা শান্তি পান না। কারণ আপনি যা আশা করছেন, তেমন প্রতিক্রিয়া আপনি তার কাছ থেকে পারতপক্ষে পান না। তাই কোনো অনুভূতি এখন আর তাকে বলার ইচ্ছা জাগে না। এমনটা হলে এই সম্পর্ক না রাখাই ভালো।
১০. সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে আপনি অনেক চেষ্টা করছেন। অথচ তার দিক থেকে তেমন কোনো চেষ্টা নেই। সম্পর্ক ভেঙে গেলেও তার কোনো আফসোস হবে না। এমন মানুষ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। ভালো থাকবেন।
from Breaking Kolkata http://bit.ly/2Z3q8hj
Labels:
Entertainment


No comments: