আনারস দিয়ে শাড়ি-গয়না তৈরি! কীভাবে জানেন?
বেনারসি নয়, বিয়েতে কনে সাজবে ‘আনারসি’ শাড়িতে। শুনে অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই। কারণ কাঞ্জিভরম, সিল্ক, তাঁত, সুতির শাড়ি পরতেই অভ্যস্ত নারীরা। তাই বলে আনারসি! তাও আবার বিয়ের সাজের জন্য!
শাড়ির নাম শুনেই প্রথমে যে শব্দ মনে আসে সেটা আনারস। ওই রসালো ফল থেকেই কি শাড়ি তৈরি? আনারসের পাতা থেকে তৈরি সুতো দিয়ে শাড়ি বুনে তাক লাগিয়েছেন শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের মহিলারা। সেই সুতো থেকে তৈরি হচ্ছে সাজগোজের গয়নাও।
শিলিগুড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে আনারস গাছ থেকে উৎপাদিত সুতো দিয়ে তৈরি শাড়ির বিষয়ে জানালেন বিধাননগর পাইনাপল ফাইবার প্রসেসিং রেহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের মহিলা সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভারতের উত্তরবঙ্গ আনারস চাষি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অরুণ মণ্ডল। সোসাইটির সদস্যারা প্রত্যেকেই আনারস চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
আনারস গাছ কাটার পর তারা সেই গাছের পাতা থেকে সুতো বের করেন ও সেই সুতো দিয়ে শাড়ি তৈরি করেন। আনারসের থেকে উৎপাদিত সুতো দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য বানানো হয়েছে একটি উত্তরীয়।
অরুণ মণ্ডল বলেন, কয়েক বছরের প্রচেষ্টার পর আনারসের সুতো দিয়ে শাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এর আগে দু’বার সুতো দিয়ে শাড়ি বা বস্ত্র তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সফল হতে পারিনি। ফের ২০১৮ সাল থেকে আমরা নতুন করে কাজ শুরু করি এবং সফল হই।
সোসাইটির সম্পাদিকা পম্পা পাল মণ্ডল বলেন, আনারস চাষিদের পরিবারের মহিলারাই সোসাইটির সদস্য। আনারস চাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহযোগিতা করাই এ সোসাইটির লক্ষ্য।
'আগামীতে সোসাইটির থেকে একটি কারখানা বানিয়ে একত্রিতভাবে ও আরও বেশি সংখ্যায় শাড়ি উৎপাদনের চেষ্টা করব। এরই মধ্যে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আমরা আবেদন করেছি। উৎপাদিত শাড়ি, বস্ত্র ও সামগ্রীর জন্য একটি বাজার তৈরি করে দেয়া হলে আরও বেশি সুবিধা হবে।'
জানা গেছে, ২০১০ সালে মালয়েশিয়ায় একটি আনারসের মেলাতে গিয়ে প্রথম আনারস গাছ থেকে সুতো তৈরির বিষয়টি দেখতে পান আনারস চাষি অরুণ মণ্ডল। তিনিই বিধাননগরে এসে একইভাবে সুতো তৈরির কাজ শুরু করেন।
এর আগে আশির দশকে ড. যতীন বিশ্বাস ও তারপর ক্যালিপ্সো বেঙ্গল ফুডস নামে একটি সংস্থা আনারস থেকে সুতো তোরির উদ্যোগ নিলেও সফল হননি।
from Daily Bangla http://bit.ly/2Jrxlmz
Labels:
Entertainment


No comments: