প্রস্রাব চেপে রাখলে হতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ
কখনও কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে, কখনও উপযুক্ত জায়গা বা সুযোগ না পাওয়ার জন্য প্রস্রাব চেপে রাখেন অনেকেই। আমরা অনেকেই এই কাজটা করি। রাস্তায় তো বটেই, অনেকে বদভ্যাসবশত ঘরে বসেও আলসেমি করে সময়মত বাথরুমে যেতে চান না। এছাড়াও দেখা যায়, নারীরা মূত্র চেপে রাখার কাজটা বেশি করেন। সাধারণত পাবলিক টয়লেটে যাবার ক্ষেত্রে পুরুষের চাইতে নারীদের অনীহা বেশি হয়। প্রথমেই জেনে রাখুন, মূত্র চেপে রাখলে ভালো কিছু হয় না। বেশি সময় ধরে মূত্র চেপে রাখলে ক্ষতি আপনারই হবে। আর ঘন ঘন এভাবে মূত্র চেপে রাখতে থাকলে আপনার শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়ে যাবে। ইউরিনারি রিটেনশন, ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া এমন সমস্যা হতেই পারে।কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রস্রাব চেপে রাখলে ভয়ানক প্রভাব আপনার শরীরের ওপর পড়তে পারে। প্রসাব চেপে রাখলে শরীরের কতটা ক্ষতি হতে পারে সে সম্পর্কে রইলো স্বল্প বিস্তর আলোচনা-
১) মূত্রত্যাগ না করে তা চেপে রাখলে, প্রস্রাবের সময় গুরুতর ব্যথা অনুভব করতে পারেন।
২) কিডনিতে চাপ সৃষ্টি হয়ে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৩) মূত্রনালীতে সংক্রমণ হতে পারে।
৪) প্রস্রাব চেপে রাখলে ব্লাডারের সিলিন্ড্রিক্যাল স্ফিঙ্কটার খুব শক্ত হয়ে বন্ধ হয়ে থাকে যাতে কোন তরল বের হতে না পারে। এই অবস্থায় ব্লাডার ফেটেও যেতে পারে।একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্লাডার দুই কাপের মতো মূত্র ধারণ করতে পারে। দুই কাপ পূরণ হয়ে গেলে আমাদের মস্তিষ্কে সিগন্যাল যায় যে এখন ব্লাডার খালি করতে হবে। আপনি যদি এ সিগন্যাল উপেক্ষা করেন এবং আরও বেশি পরিমাণে মূত্র চেপে রাখেন তাহলে ব্লাডারের সিলিন্ড্রিক্যাল স্ফিঙ্কটার খুব শক্ত হয়ে বন্ধ হয়ে থাকে যাতে কোন তরল বের হতে না পারে। এমনকি কখনো কখনো (খুবই দুর্লভ সব অবস্থায়) ব্লাডার ফেটেও যেতে পারে। সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ঘন ঘন মূত্র চেপে রাখার ফলে ইউরিনারি রিটেনশনের সমস্যাটা দেখা যায়। এই সমস্যা হলে আপনি একবারে মূত্রত্যাগ করে ব্লাডার খালি করতে পারেন না। বারবার যেতে হয় টয়লেটে। ব্লাডারের পেশীগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে এমনটা হয়। বয়সের সাথে এই সমস্যাটা দেখা দেয় সাধারণত। শুধু তাই নয়, এভাবে মুত্র চেপে রাখতে রাখতে আপনার ব্লাডারে জীবাণু ভরে যায়। এটা ব্লাডার বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের সম্ভাবনা বাড়ায় অনেকগুণ।
৫) সাধারণত নারীরা ৩-৬ ঘন্টা মূত্র চেপে রাখতে পারেন। কিন্তু প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে এই সময়টি আলাদা আলাদা হয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব ব্লাডার খালি করে ফেলুন। শরীরের সুস্থতাই প্রথম এবং শেষ কথা।


No comments: