Politics

[Politics][bleft]

West Bengal

[West Bengal][grids]

World

[World][bsummary]

National

[National][twocolumns]

বিজেপি ধর্ম জানে না, আমাকে পুরীর মন্দিরে ঢুকতে দিতে চায়নি : মমতা


পূর্ব মেদিনীপুর : লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে নিশানা করেই তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুলে প্রশাসনিক জনসভা থেকে  ধর্ম নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। পাশাপাশি নন্দীগ্রামের আন্দোলনের স্মৃতিকেও মানুষের মনে উসকে দেন তিনি।
একের পর এক বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক সভা করছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেই সব সভা থেকেই  বিজেপিকে রাজনৈতিক আক্রমণ করছেন মমতা। মূলত ধর্ম নিয়েই বিজেপিকে আক্রমণের তীব্রতা মমতার বেশি। আজ নন্দীগ্রাম সংলগ্ন বাজকুলের মত মিশ্র এলাকায় তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, বিজেপি কোনও ধর্ম জানে না, ওরা শুধু বিভেদ জানে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি গেয়েছিলাম পুরীর মন্দিরে পূজা দিতে। বিজেপির লোকেরা আমাকে বলে, তুমি হিন্দু না। তোমায় ঢুকতে দেব না। আমি বলেছিলাম হরিদাস সব। কাজ নেই, কর্ম নেই। না জানে হিন্দু ধর্ম, না জানে ইসলাম ধর্ম, না জানে শিখ ধর্ম , না জানে খ্রিষ্টান ধর্ম, না জানে মানব ধর্ম। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে, ব‍্যাঙ্কগুলোকে লুটে নিয়েছে, কৃষকদের শেষ করে দিয়েছে, শিল্প শেষ করে দিয়েছে। এর পরেই তিনি বলেন বিজেপি কী মানুষকে ধর্ম শেখাবে? মা দুর্গার পূজা কি বিজেপি শিখিয়েছে? ঈদও কি বিজেপি শিখিয়েছে? রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, মিশ্র এলাকায় মমতা সমতা রক্ষার জন্য দূর্গা পূজার পর ঈদের প্রসঙ্গ নিয়ে আসেন। কারণ বিজেপি তো হিন্দু ধর্মের উপর জোর দেন, তারা অন্য কোনও ধর্মকে শ্রদ্ধা করলেও পালন করেন না।
এরপরই হিন্দু ধর্ম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বিজেপির জন্মের অনেক আগে থেকেই হিন্দু ধর্ম আছে। মুনিঋষিদের তপবনে জন্ম। হাজার হাজার বছর ধরে ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুবেদ, রামায়ণ মহাভারত, কোরান, বাইবেল, গ্রন্থ সাহেবে সব ছিল। এখানেও তিনি হিন্দু ধর্ম গ্রন্থের কথা বলতে গিয়ে কোরান, বাইবেল জুড়ে দেন। যাতে তার গায়ে হিন্দু তকমা না লাগে। তিনি যে উদারপন্থী হিন্দু সেটা বুঝিয়ে দেন বলে বক্তব্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

বিজেপিকে আরো আক্রমণ করতে গিয়ে লোকসভা ভোটের আগে এই এলাকার মানুষের মনে তিনি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথা উসকে দেন। তিনি সকলকে মনে করিয়ে দেন, সেই সময় তিনি কত কষ্ট করে, ত্যাগ স্বীকার করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ বলার সময় অধিকারী পরিবারের কথা একবার বলেই তিনি নিজের প্রসঙ্গে চলে যান। যদিও ওই সময়ে শিশির অধিকারী ও শুভেন্দু অধিকারী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
সাধারণ মানুষের বক্তব্য শিশুরবাবু, শুভেন্দুবাবু এলাকায় থেকে আন্দোলনের যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এই দিন নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ বলার সময় মমতা ব্যানার্জি অধিকারী পরিবারের প্রসঙ্গ বেশি করে না তোলায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।

No comments: