কংগ্রেস নরম হিন্দুতত্ত্বের রাজনীতি করছে, দলীয় মুখপত্রে জোট পন্থীদের বার্তা কারাতের
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী ভোট একজায়গায় আনতে তৎপর ডান-বাম সব পক্ষই। ইতিমধ্যে একাধিক মঞ্চে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধির সঙ্গে হাত ধরাধরি করে ধর্মনিরপক্ষে জোট শক্তি গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিতে দেখা গেছে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে। এই ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের জন্য কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের রাস্তা খোলা রাখতে শেষ পার্টি কংগ্রেসে নীতিরও বদল ঘটিয়েছে সিপিএম। সেই নীতিকে হাতিয়ার করে এ রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে পাকপোক্ত জোট করতে তৎপরতার জোট পন্থী বাংলা সিপিএমও। কিন্তু দলের অভ্যন্তরে জোট পন্থী ইয়েচুরি বনাম প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাতের লড়াই এখনও অব্যাহত।
তারই আঁচ পাওয়া গেল দলীয় মুখপত্রের সম্পাদকীয় কলমে। কংগ্রেসের ধর্মনিরপক্ষে অসাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন কারাত। চলতি পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন পর্বে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের।
বর্তমানে প্রকাশ কারাত দলের ইংরেজি মুখপত্র পিপলস ডেমোক্রেসির সম্পাদক। প্রকাশিত পত্রিকায় 'গ্রোয়িং মোবিলাইজেশন অফ ওয়ার্কিং পিপল টু ডিফিট বিজেপি’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে কংগ্রেস নরম হিন্দুতত্ত্বের রাজনীতি করছে বলে দাবি করেন। দাবির পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন একাধিক ব্যাখ্যা।
কারাত দাবি করেন, ‘ছত্তিশগড়, মধ্য প্রদেশ এবং রাজস্থানে নির্বাচনী প্রচারে কংগ্রেস ব্যাপক হিন্দুত্বের প্রচার করেছে। নিজেকে বিজেপির থেকেও বেশি ‘হিন্দু’ প্রমাণে মরিয়া রাহুল গান্ধী একের পর এক মন্দিরে গিয়েছেন। মধ্য প্রদেশে নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতি পঞ্চায়েতে গো-শালা তৈরি করা, গো-মূত্র বিক্রি, এবং রামের বনে যাওয়ার পথ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কংগ্রেস। রাজস্থানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বৈদিক নীতি কথা পড়ানোর জন্য আলাদা এডুকেশন বোর্ড গঠনের। শুধু তাই নয়, পেহলু খান খুনের ব্যাপারেও চুপ থেকেছে কংগ্রেস।'
এরপরই কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক কৌশলিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'কংগ্রেস যদি মনে করে নরম হিন্দুত্বের কথা বলে তারা বিজেপিকে পরাস্ত করবে তবে তারা ভুল করছে।’
এরপরই কার্যত কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বিরুদ্ধে গিয়ে বাম ঐক্য শক্তিশালী করে অবিজেপি, অকংগ্রেসী শক্তিকে এক ছাতার তলায় আনার পক্ষে আবারও সওয়াল করেন কারাত। তিনি দাবি করেন,ভারতে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য শক্তিশালী হচ্ছে। রুটি, রুজিসহ মানুষের মৌলিক দাবি পূরণে ব্যর্থ কেন্দ্র। ‘অযোধ্যায় মন্দির চাই না, ঋণ মকুব চাই’ বলে লাখো কৃষকের মিছিল হচ্ছে দিল্লিতে। এই অবস্থায় কংগ্রেসের এই নরম হিন্দুত্বের লাইন দিয়ে বিজেপির মোকাবিলা করা যাবে না।
দলীয় মুখপত্রে কারাতের এই লেখা দলের অভ্যন্তরে জোট পন্থী নেতাদেরকে হুঁশিয়ারি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এই সম্পাদকীয় এখন পার্টিতে অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী প্রচার হোক কিংবা বাম শাসিত কেরলে সাবরীমালা মন্দির ইস্যুই হোক, সামগ্রিকভাবে কংগ্রেসের যে ভূমিকা, তা দিয়ে কীভাবে বিজেপির হিন্দুত্বের মোকাবিলা হবে তা ইয়েচুরি, সূর্যকান্ত মিশ্রের মতো জোট পন্থী সিপিএম নেতাদেরও চিন্তায় ফেলেছে। প্রকাশ কারাট ঘনিষ্ঠ পলিটব্যুরো সদস্য এস আর পিল্লাইও সাবরীমালা ইস্যুতে সম্প্রতি কেরলে কংগ্রেসের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন।


No comments: