Politics

[Politics][bleft]

West Bengal

[West Bengal][grids]

World

[World][bsummary]

National

[National][twocolumns]

৮-১২ বছরের শিশুকে যা যা শেখাবেন



৮ থেকে ১২ বছরের মধ্যে শিশুর বোধদয় হয়। এই বয়স একটা মানুষের জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময়। একটি শিশু তখন পারিবারিক গণ্ডীর বাইরের জগতে মিশতে শুরু করে। নিজে নিজে বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা করতে শুরু করে। সব মিলে এই সময়ের শিক্ষা, চিন্তা, চেতনা, আর পরিবেশের প্রভাব শিশুর উপর গভীর প্রভাব ফেলে, তার সারা জীবনের চিন্তা- চেতনা ও কর্মে প্রতিফলিত হয়। সুতরাং বাবা মা’ এই সময়ে খুবই সচেতন হউন। একটু যত্নের অভাবে নষ্ট হতে পারে আপনার শিশুর অনেক বড় সম্ভাবনা। তাই সাবধান হোন। শিশুর যে বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দেবেন-

শিক্ষা
ক্লাসে ফার্স্ট হবার জন্য সন্তানকে অনেক প্রেসার দেই। এতে সে না বুঝে মুখস্ত করার একটা চেষ্টা করে। বোঝার চেষ্টা করে না বা চিন্তা করার সময় পায় না। অনেক বাবা-মা'র অতিরিক্ত প্রেসারে শিশুর চিন্তাশক্তি হয়ে যায় ভোঁতা। তাই প্রথম দিকে রেজাল্ট ভালো করলেও দেখা যায় কলেজ কিংবা ভার্সিটি তে গিয়ে অনেক খারাপ রেজাল্ট করছে ছেলে-মেয়েরা। সুতরাং বাচ্চাকে পড়া কম দেন। স্কুলের বাইরে দিনে দুই ঘণ্টার বেশি পড়ানো ঠিক নয়। এমনকি প্রতিদিন পড়ানোও ঠিক নয়। একটা ট্যালেন্টপুল বৃত্তির জন্য ১৬ ঘন্টা ৬টা বইয়ের পিছে প্রতিদিন লাগিয়ে রাখা তিলে তিলে তার মেধা নষ্ট করার ভাল উপায়। শিশুর ভবিষতের দিকে তাকিয়ে তাকে গড়ে তুলতে হবে, বর্তমান ক্লাসের রেজাল্টের জন্য নয়। ভাবছেন কিভাবে?

ট্রিক-১
সনাতন পদ্ধতি থেকে কিছুটা বের হয়ে এসে বাচ্চাকে পড়ান। পড়া নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুন। তাকে যে কোন রচনা সম্পর্কে বলতে বলুন। যে টুকুই বলুক না কেন সে সেটা বুঝে বলবে। তাৎক্ষনিক খুব ভাল বলতে না পারলেও পরে নিজে নিজে চিন্তা করে আরও নতুন বিষয় জানার চেষ্টা করবে। নিজে চিন্তা করার সুযোগ থেকে আপনি তাকে বঞ্চিত করলে পরবর্তীতে তার চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যাবে।

ট্রিক-২
মুখে মুখে অঙ্ক করান। ভেবে বলতে দিন । যার প্রেক্ষিতে সে নিজে নিজে প্রশ্ন তৈরি করার চেষ্টা করবে। হায়ার লেভেলে গিয়ে বেটার চিন্তা করবে। বেটার পারফর্ম করবে। সন্তানের পড়া মুখস্ত না হওয়া পর্যন্ত ছাড়েন না এমন যদি হয় তাহলে আপনি তার ক্ষতি করছেন। এমন অভ্যাস ত্যাগ করুন।

ট্রিক-৩
একটা ড্রয়িং করতে গেলে অর্ধেকটা যদি আপনি বলে দেন বাকীটুকু তার মন মত আঁকতে দিন। রঙ বেছে নিতে দিন তাকেই। তাহলে বাচ্চার সঠিক নির্বাচন ক্ষমতা বাড়বে। সব টুকুতে আপনার পছন্দ তার মাথায় চাপিয়ে দিতে যাবেন না। যদি আপনি তার নির্বাচন ক্ষমতা নষ্ট করতে না চান। তাছাড়া সব সময় সব কাজে আপনি তো আর তার সাথে থাকবেন না। জীবনের অনেক কিছুর সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।

গরুর রচনা মুখস্থ করিয়ে নিজের শিশুকে গর্ধব বানিয়ে ফেলবেন না।

আউটডোর খেলাধূলা
আপনার সন্তান সারা জীবন সুস্থ থাকুক এটা আপনি নিশ্চয় চান। আর সে জন্যই তাকে বেশি বেশি খেলতে দিন। সুস্থতার জন্য খেলার বিকল্প নেই। মাসলের ব্যবহারের উপর তার সক্ষমতা তৈরি হয়। খেলাধূলা করতে দিলে আপনার সন্তান সানন্দে মাসলের ব্যবহার কারবে। আর আর মাধ্যমে অর্জিত হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, কাজ করার সামর্থ্য। এই কয়েক বছরের খেলাধুলা করার উপকারিতা আপনার সন্তান আজীবন ভোগ করবে।

ইনডোর খেলাধুলা
ইনডোর খেলাধুলা যেমন, দাবা,লুডু, স্নেক, এই খেলাগুলো তাকে খেলতে দিন। যেহেতু এই খেলাগুলো তাৎক্ষনিক বুদ্ধি দিয়ে খেলতে হয় এতে তার বুদ্ধির চর্চা হবে। সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা বাড়বে। সন্তানের সাথে অংশগ্রহণ করুন।

এক্সট্রা কারিকুলাম
রান্না করা, কাপড় ধোয়া, ঘর গোছানো, ড্রয়িং করা, গান গাওয়া শেখাতে পারেন। আর মধ্য যে গুলোতে সে সাছন্দ বোধ করে সেগুলোতে প্রাধান্য দিন। তবে হ্যাঁ, গান গাওয়া মানেই এই নয় যে সে বড় হয়ে অনেক বড় শল্পী হবে। তবে এটি না হলেও আরেকটা হবে। সেটা হল মল্টিডাইমেনশনাল চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়বে। জীবন কীভাবে আরও সুন্দর করা যায় তার একটা দিক নির্দেশনা পেয়ে যাবে। আর এটাই পরবর্তীতে তাকে সামান্য হলেও সুখী করবে। কোন কাজই তাকে প্রেশার দেয়া ঠিক হবে না। যে কোন কাজ তাকে উপভোগ করতে দিন। সহযোগী হয়ে উঠুন।

টাকার মূল্য বুঝতে দিন
আপনার যতই টাকা থাক না কেন সন্তানের সব চাহিদাই সাথে সাথে পূরণ করতে যাবেন না। তার কাছ থেকে সময় নিন কিছু দিনের । বলুন হাতে টাকা আসলে কিনে দিবেন। সন্তানকে একটা ধারাবাহিক কাজ দিন। এই যেমন ধরুন সাত দিন তাকে নিজের বিছানাটা সময় মত পরিপাটি করতে বলুন। তবে খুব প্রেশার দিয়ে নয় প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে বলুন। কাজটা ঠিক ঠাক মত করতে পারলে তাকে কিছু টাকা দিন। এতে সে টাকার মূল্য বুঝবে।কাজ করার অর্থ বুঝতে দিন। না হলে দুনিয়াতা কিভাবে চলে সেটা বুঝতে পারবে না।

সামাজিকীকরণ ও দায়িত্ববোধ
বড়রা যখন কথা বলবেন সম্ভব হলে সন্তানকে রাখার চেষ্টা করুন। তাকে আপনার পরিচিতদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। সন্তান কোন কথা বললে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ভবিষ্যতে কারও সাথে কথা বলতে গেলে তার মধ্যে জড়তা থাকবে না।

ট্রিক ১
তুমি বড়দের মাঝে কথা বলতে আসবে না' এই বলে সন্তানকে থামিয়ে দিবেন না। এতে তার যোগাযোগ ক্ষমতা বাধা গ্রস্থ হবে। কথা বলতে দিন তাহলে যে কোন জায়গায়, যে কোন মাপের মানুয়ের সাথে প্রয়োজনীয় কথা বলতে গিয়ে নার্ভাস হবে না। তবে তাকে বিভিন্ন মানুষের সাথে কিভাবে ভদ্রতা বজায় রেখে কথা বলতে হবে সেটা শিখিয়ে দিন ধৈর্য্য ধরে।

ট্রিক ২
যখন আপনি আপনার সন্তানের জন্য কেনাকাটা করবেন। তাকে সাথে রাখুন। তিনটা পোশাক আপনার পছন্দ হলে সেগুলোর ভেতর থেকে বাচ্চাকে বেছে নিতে দিন। এই সুযোগ পেলে তার রুচিবোধ বাড়বে এবং নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা বাড়াবে।

এক কথায় মনে রাখবেন, এই সময়টা তার ক্লাসে শীর্ষ দশে থাকার সময় না, হাতের লেখা বইয়ের লেখার মত সুন্দর করার সময় না, অঙ্কে ১০০ তে ১০০ পাবার সময় না, এই সময়টা তার সব কিছু অল্প অল্প করে শুরু করার সময়, নিজে নিজে চিন্তা করার সময়, কিছুটা একাকীত্ব আলিঙ্গন করার সময়।



from Daily Bangla http://bit.ly/2JMkJFY

No comments: