অফিসে শান্তি ও সাশ্রয়
অফিসের কর্মীদের মনঃসংযোগ বাড়াতে ও একঘেয়েমি কাটাতে পরিবেশ হওয়া চাই আরামদায়ক ও প্রকৃতিবান্ধব। এজন্য চাই সচেতন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। অফিসে সাশ্রয় ও শান্তির জন্য কিছু পরামর্শ—
দিন শেষে কিংবা কাজের বিরতিতে ডেস্কটপ, প্রিন্টার, ফটোকপিয়ারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সুইচ বন্ধ রাখুন। সবগুলো কম্পিউটারের সেটিংস যাতে বিদ্যুত্ শক্তির সর্বাধিক সাশ্রয় নিশ্চিত করে, সেদিকে লক্ষ রাখুন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৫ ওয়াটের একটি মনিটর যদি কাজ না থাকা অবস্থায় বন্ধ রাখা হয়, তবে বছরে ৭৫ পাউন্ড কম কার্বন নিঃসরণ হয়। রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় লাইট, ফ্যান বন্ধ করুন। ব্যবহার করতে পারেন বিদ্যুত্সাশ্রয়ী বাতি।
অফিসে পুনর্ব্যবহূত (রিসাইকেলড) কাগজে তৈরি টিস্যু, টয়লেট পেপার, চায়ের কাপ ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। কাগজের ব্যবহার কমিয়ে ই-মেইল ও স্ক্রিন স্লাইডের শরণাপন্ন হতে পারেন। কম্পিউটারের পর্দায় দেখে যথাসম্ভব পড়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। বেশি দরকার না হলে প্রিন্ট দেবেন না; তাহলে কাগজ কেনার খরচ কমে যাবে, সেই সঙ্গে পরোক্ষভাবে বৃক্ষ নিধনে আপনার অংশগ্রহণও কমবে।
পণ্যের পুনর্ব্যবহার ও সর্বোচ্চ উপযোগ আহরণের চেষ্টা থাকতে হবে। যেমন— অফিসে রাখা খবরের কাগজ ফেলে না দিয়ে সেগুলো জমিয়ে বিক্রি করা যায়। আবার অফিসের পুরনো আসবাব বিক্রি না করে কোনো স্কুলে দান করতে পারেন। অথবা পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তাদের কাছে বিক্রিও করা যেতে পারে।
অফিসে স্টায়রোফোমের কাপ ব্যবহার না করে চা-কফির জন্য সিরামিক ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে পরিবেশের ওপর চাপ কমবে।
বাজারে নেচার ক্লিন, নরওয়েক্স, মেথড, ইকোভার এবং পিংক সলিউশনের মতো বেশকিছু পণ্য পাওয়া যায়; যেগুলো তেজস্ক্রিয়তাবর্জিত ও পরিবেশবান্ধব। অফিস পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সাহায্য নিতে পারেন এগুলোর।
অফিসের কোনো মিটিংয়ের জন্য বাইরে থেকে খাবার আনার সময় লক্ষ রাখবেন, মাংসের চেয়ে সবজির পদ যাতে বেশি হয়। এতে আপনি ভালো থাকবেন, ভালো থাকবে পরিবেশ।
পরিবেশবান্ধব হোক পোশাক পরিচ্ছদ। গরমের সময় অন্তত এক মাস অফিসে পোশাকের ক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থান নিতে পারলে ভালো। এ সময় সুট পরিধানের বাধ্যবাধকতা কমালে অফিস ঠাণ্ডা রাখার খরচ কমবে অনেকটাই। আর পোশাক ড্রাইওয়াশে না দেয়াই ভালো। কারণ বেশির ভাগ ড্রাইওয়াশ করা হয় পাইরোথিলিন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে, যা শরীর ও পরিবেশ দুটোর জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর। যদি ড্রাইক্লিনারের কাছে যেতেই হয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে তাদের ব্যবহূত রাসায়নিক পদার্থটি তরল জীবাশ্ম হয়।
from Daily Bangla http://bit.ly/2JQ7Z18
Labels:
Entertainment


No comments: