চাকরির ইন্টারভিউয়ে সফল হবার চাবিকাঠি
চাকরি নামের গুপ্তধনের সর্বশেষ সিন্দুকের ডালাটাই হলো ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার। অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থীই এই ডালা খুলতে ব্যর্থ হন।পড়াশোনার ফল ভালো। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাও হয় অসাধারণ। কিন্তু সবকিছু জট পাকিয়ে যায় সাক্ষাৎকার পর্বে।
এর প্রধান কারণ আছে বেশ কয়েকটি। সরাসরি নিয়োগদাতার সামনে বসে কথা বলার মানসিক শক্তি না থাকা, যথেষ্ট পড়াশোনা বা প্রস্তুতি না নিয়ে হাজির হওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রেই চাকরির নিয়োগদাতাদের কিছু ধ্যানধারণা।
নেতিবাচক বাচনভঙ্গি ও স্পষ্ট কথা বলতে না পারা চাকরিদাতাকে অসন্তুষ্ট করতে পারে। আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি থাকতেই হবে এমনটা নয়। উপস্থাপক পদে তো আর চাকরি খোঁজা হচ্ছে না। এমনকি আপনি কিছুটা নার্ভাস থাকবেন, এটুকু মেনে নিয়েই সাধারণত সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু হয়। কিন্তু একেবারেই নিজেকে উপস্থাপন করতে না পারা ব্যর্থতা।
কিছু প্রশ্ন সাক্ষাৎকারে প্রায়ই করা হয়, যেমন ‘আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন’ বা ‘আপনি অবসর সময়ে কী করেন’ ইত্যাদি। এসব প্রশ্ন আপাতদৃষ্টিতে গড়পড়তা মনে হলেও আসলে এগুলো লুক্কায়িত সুযোগ। আর দশজন প্রার্থীর মতো দায়সারা উত্তর না দিয়ে আকর্ষণীয় উত্তর দিন। আপনার যে বিষয়ে প্রস্তুতি ভালো, সে বিষয়টি সম্পর্কে বলার সুযোগ রাখুন। ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় আপনি যদি শখ হিসেবে গান করার কথা উল্লেখ করেন, সেই মুহূর্তে তা কাজে না-ও আসতে পারে। কিন্তু আপনি যদি শখ হিসেবে কয়েন বা ধাতব মুদ্রা জমানোর কথা উল্লেখ করেন, তা থেকে নিয়োগকর্তা অবশ্যই আগ্রহী হবেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন ছুড়ে সাক্ষাৎকার এগোতে পারেন। ভাষার মিশ্রণ পরিহার করুন।
যদি কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করতে আপনার অন্য ভাষা ব্যবহার করতে হয়, তবে বিনীতভাবে অনুমতি নিন। উত্তর দেওয়ার সময় অবশ্যই প্রশ্নকর্তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। যতটা সম্ভব হাসিমুখ করে উত্তর দিন। উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে সরাসরি বলুন যে আপনি জানেন না। সাক্ষাৎকারে আন্দাজে কথা বলা প্রশ্নের উত্তর না পারার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখুন। সাক্ষাৎকার শেষে হাসিমুখে বিদায় নিন। রুম থেকে বেরোনোর আগে ধন্যবাদ দিন। প্রশ্নকর্তার সঙ্গে নিজ থেকে হাত না মেলানো ভালো। তবে প্রশ্নকর্তা হাত মেলাতে চাইলে তা সম্পন্ন করুন। মোদ্দা কথা, আত্মবিশ্বাসী থাকুন। আপনার কথা, ভাষা এবং আচরণে আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠলে আপনি চাকরির দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন।
সবচেয়ে ভালো হয়, ছাত্রজীবনেই নানা ধরনের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হন। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আন্দোলনে জড়িত সংগঠনগুলো মানুষের সঙ্গে কথা বলার ভীতি দূর করে দেয়। বাচনভঙ্গিও ভালো হয়। তবে শুধু চাকরির জন্যই সংগঠনে জড়িত না হওয়াই ভালো। দেশ ও বিদেশের সুবক্তাদের ভিডিও ইউটিউবে দেখুন।
সংগৃহীত
from ap bangla | অ্যানালিটিক্যাল প্রেস | Analytical Press | http://bit.ly/2Xxo14c
Labels:
Entertainment




No comments: