সিনেমার ভবিষ্যৎ ইন্টারনেট-হোম থিয়েটারে
হলগুলো দর্শক টানতে পারছে না আগের মতো। সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক। এ অবস্থায় শর্টফিল্মের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলে মনে করেন নির্মাতা রাজ মুখার্জি। ‘মন আমার শুধু তোমার’, ‘ভূমিপুত্র’, ‘ডার্লিং’, ‘লাইফ ইন পার্কস্ট্রিট’সহ বেশ কিছু হিট বাংলা সিনেমার এ পরিচালক আগরতলা এসেছিলেন একটি ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রচারের জন্য। সেখানে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
রাজ মুখার্জি বলেন, সিনেমার ভবিষ্যৎ হচ্ছে
ইন্টারনেট ও হোম থিয়েটারে। এখন মানুষ রাস্তাঘাটে, অফিসে যাওয়ার পথে
ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে সিনেমা দেখার জন্য ইন্টারনেটে আলাদা
করে টাকাও দিতে হচ্ছে। ধরেন, আপনি একটা সিনেমা দেখবেন, এর জন্য ইন্টারনেটে
১০০ টাকা লাগবে, যা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে। এরপর ২৪
ঘণ্টায় যতবার খুশি, যতজনকে নিয়ে খুশি, মোবাইল অথবা হোম থিয়েটারে দেখতে
পারেন। চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপেও দেখতে পারবেন। ২৪ ঘণ্টা পর দেখতে
চাইলে আবার নতুন করে টাকা দিতে হবে।
‘তাই, এখন প্রযোজক সংস্থাগুলো ইন্টারনেট কপিরাইটসের দিকে ঝুঁকছে। আগামী দিনে এ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে ও আধুনিক হবে।’
তিনি বলেন, এ শিল্পে অনেক পরিবর্তন এসেছে।
প্রথমে ভিডিও রাইটস ছিল প্রধান। তখন, শহর থেকে গ্রামগঞ্জ, সব জায়গায় ভিডিও
পার্লারে সিনেমা দেখানো হতো। পরে এলো সিনেমা হলের প্রবণতা। তখন সিনেমার
রিলের রাইটসের গুরুত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি। এখন তা চলে এসেছে ইন্টারনেট
রাইটসে।
গুণী এ নির্মাতা বলেন, সিনেমা খুব ভালো
হলে মানুষ মাল্টিপ্লেক্সে যায়। আর, সিনেমার সময়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন
এসেছে। আগে তিন ঘণ্টার সিনেমা না হলে মানুষ হলে যেতে চাইত না। এখন তিন
ঘণ্টার সিনেমা হলে মানুষ দেখতে চায় না, তাদের হাতে সময় কম। তাই,
মাল্টিপ্লেক্সের শো-টাইম ২ ঘণ্টা করা হয়েছে ও সিনেমা তৈরি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১
ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের। ভবিষ্যতে এ সময় আরও কমে আসবে। আগামী দিনগুলোতে শর্ট
ফিল্মের বাজার আরও ভালো হবে।
ভক্তদের জন্য কোনো খবর আছে কি-না জানতে
চাইলে রাজ মুখার্জি বলেন,আমার পরবর্তী সিনেমার নাম ‘তৃতীয় পুরুষ’। একটি
শিশুকে নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমার কাহিনী। এখন পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে।
এতে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র, দোলন রায়, মনোজ
মিত্র, ইন্দ্রজীৎ, দীপঙ্কর ও শুভদর্শী মুখার্জি। আগামী জুলাইয়ে সিনেমাটি
মুক্তি পাবে। এরপর আসবে ‘বিচার’। এ সিনেমার শুটিং এ বছরের অক্টোবর নাগাদ
শুরু হবে। ডিসেম্বরের দিকে অন্য একটি ছবির কাজে হাত দেবো, নাম ‘ধ্বনি’। এ
ছবিটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে আগ্রহী। এর শুটিং হবে উত্তরপূর্ব ভারতের মেঘালয়
রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে।
Labels:
Entertainment


No comments: