ধর্ষণের শিকার নারীদের করণীয়
শারীরিক ক্ষমতা আর সমাজের দৃষ্টিতে নারীর মূল্যায়ন সব সময়ই থাকে পুরুষের চেয়ে নিচের ধাপে। যদিও বর্তমানে সব বাধা পেরিয়ে অনেক নারীই দেখেছেন আলোর মুখ। কিন্তু পিছিয়ে আছেন হাজারও নারী। পদ-দলিত হচ্ছেন যখন-তখন। প্রতিদিনই খবরের পাতা খুললে চোখে পড়ে লাঞ্চনা-গঞ্জনা আর ধর্ষনের শিকার অসহায় নারীর মুখ। সারাবিশ্বেই পুরুষের হাতে প্রতিদিন বলি হচ্ছে এসব নারী। অথচ লোকচক্ষুর ভয়, প্রাণের মায়ায়, দুবৃত্ত্বদের হুমকিতে থেকে যাচ্ছে আড়ালেই। হচ্ছে না কোন প্রতিকারের ব্যবস্থা। এমনকি ধর্ষণের ফলে অসুস্থ নারীর চিকিৎসার ব্যবস্থাও থেকে যায় অনিশ্চিত। এর ফলে অকালেই ঢলে পড়তে হয় মৃত্যুর কোলে। আর প্রাণে বেঁচে গেলেও নানা রকম অসুস্থতা বয়ে বেড়াতে হয় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই শতকরা ৩৩ জন মেয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। প্রতি ২২ মিনিটে ভারতের কোথাও না কোথাও একটি মেয়েকে যৌন নিগ্রহ বা ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। বাংলাদেশসহ প্রায় সারা বিশ্বেই বেড়ে চলেছে ধর্ষণের সংখ্যা, তাও আবার অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। পশ্চিমা বিশ্বে জার্মানির মতো উন্নত দেশের নারীরাও যৌন নিগ্রহ বা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
স্বাভাবিকভাবেই ধর্ষণের মতো দুঃস্বপ্ন কোনো মেয়েই দেখতে চান না। ধর্ষণের পর যে কোনো নারী এতটাই লজ্জিত এবং আতঙ্কিত থাকেন, যে তিনি ধর্ষক সম্পর্কে কোনো কথা পুলিশ বা অবিভাবকের কাছে জানাতে ভয় পায়, কুণ্ঠা বোধ করে।
জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট শহরে অবস্থিতএকটি প্রতিষ্ঠান আছে যা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা ধর্ষিত নারীদের সঠিক পদ্ধতিতে এবং দ্রুত ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে।সেসব নরীকে আর্থিক সাহায্য করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানের স্ত্রী বিশেষজ্ঞ ডা. সোনিয়া পিলস বলেন, ‘অনেক ধর্ষিতা নারীরই বেশ কিছুদিন সময় লাগে নিজের জীবনের দুর্ঘটনার কথা কারো কাছে সরাসরি বলতে’।
ওই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ এই ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পর্কে সব রকম তথ্যই পাওয়া যায়। জার্মানির ধর্ষণ বিষয়ক নির্দেশিকায় ধর্ষণের পর নারীদের যা করণীয় তার কিছু পরামর্শ দেয়া আছে। সেগুলি হলো
১। ধর্ষণের পর মোটেও একা থাকা যাবে না, কোনো বান্ধবী বা আত্মীয়ার সঙ্গে যোগায়োগ করতে হবে, ঘটে যাওয়া ধর্ষণ নিয়ে কথা বলতে হবে এবং কাছের মানুষের সাহায্য নিতে হবে।
২। ঘটনার পর যথা সম্ভব তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ। অর্থাৎ ধর্ষণের চিহ্ন মুছে যাবার আগেই ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে।
৩। হাসপাতালে যাওয়ার পর শুধুমাত্র একজন স্ত্রী বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
৪। ধর্ষণকারী যেসব জিনিসের সংস্পর্শে এসেছে, তার সব তুলে রাখতে হবে। যেমন অন্তর্বাস, প্যাড ইত্যাদি। সম্ভব হলে এ সব জিনিসের ছবিও তুলে রাখতে হবে।
৫। নিজেকে দোষী ভাবার কারন নেই। যে ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট কাজটি করেছে, শুধু সে একাই এর জন্য দায়ী, অপরাধী।মেয়েটি নয়।
ধর্ষক এইচআইভি আক্রান্ত ছিল কিনা তা জানতে দ্রুত পরীক্ষা করাই মঙ্গল। ধর্ষণের ফলে কোনো নারী গর্ভবতী হলে, সেটা দ্রুত আটকানোর পন্থাও (একটা সাধারণ ট্যাবলেটের মাধ্যমে) নেয়া সম্ভব একমাত্র সঠিক সময়ে ডাক্তারি পরীক্ষাটি সম্পন্ন হলে।এছাড়া ডাক্তারি বা মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার সঙ্গে ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দরকার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং সমাজের বন্ধুবৎসল আচরণ।
from Daily Bangla http://bit.ly/2WS4Ul1
Labels:
Entertainment


No comments: