সঙ্গীকে সুপথে আনুন
সঙ্গীটির সমস্যা অনেক। অনেকবার হয়তো ভেবেছেন চূড়ান্ত কোনো সময় বেঁধে দেবেন। ভেবেছেন বলবেন, ‘যদি এটা বন্ধ না হয়, তাহলে কিন্তু চললাম, নিজের পথ বেছে নিলাম।’
আপনার সঙ্গীটি আরেকটি সম্পর্ক বজায় রাখছে, কোনো বদভ্যাস চালিয়ে যাচ্ছে, পরিবারের চেয়ে কর্মস্থলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, সংসারের চেয়ে শখের কাজে তার মনোযোগ বেশি— এমনতরো কত কী!
সম্পর্ক ও সংসারকে তিলে তিলে কুরে খাচ্ছে এমন যে বিষয়গুলো, তা কীভাবে ঠেকাবেন?
হ্যাঁ, নিবৃত্ত হওয়ার জন্য সঙ্গীকে চূড়ান্ত একটি সময় বেঁধে দেয়ার ধারণাটি আকর্ষণীয়। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এরই মধ্যে কোনো বন্ধু-স্বজন আপনাকে এমন ফন্দি দিয়েছেন। বোধ করি আপনি নিজেও ভাবছেন ব্যাপারটি মন্দ নয়। কোনো মনোবিদ আপনাকে এমন পরামর্শ দিলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে, এভাবে সময় বেঁধে দিয়ে সম্পর্ক কি আদৌ ঠেকানো যায়?
আপনি যদি সত্যিই সম্পর্ক অথবা সংসার টিকিয়ে রাখতে চান, তাহলে এহেন ‘শেষ কথা তত্ত্ব’ থেকে বেরিয়ে আসুন। চূড়ান্ত কোনো শর্ত অথবা সময় বেঁধে দিয়ে কাজ হবে না। কেন এতে কাজ হবে না তা বলছি।’
‘তোমার আচরণ অসহনীয়। আমি আর পারছি না। এর শেষ না হলে নিজের পথ ধরব’—এ ধরনের হুঁশিয়ারি কিছুটা ক্ষমতায়নের কাজ করে। ভাবখানা এমন যেন পুরো ব্যাপারটির নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে চলে আসছে। এত দিন যিনি সয়ে এসেছেন, সেই আপনিই এবার নিজের হাতে রায়দণ্ড তুলে নিয়েছেন। এর পরের কিছুটা সময় আপনার ভালো লাগবে, নিজেকে হালকা বোধ করবেন, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু একবারও কি ভেবেছেন আখেরে এর পরিণতি কি হবে; শর্ত ও সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আদৌ আসবে কিনা; আপনার সম্পর্কের ক্ষত এতে সেরে যাবে কি?
আপনি হয়তো ভাবছেন, সময় বেঁধে না দিয়ে সম্পর্কটাকে একেবারে অরক্ষিত রাখি কীভাবে? আসলে সঙ্গী অথবা স্বামীকে সময় বেঁধে দিয়ে আপনি কিন্তু প্রকারান্তরে নিজেদের সম্পর্কের জন্য কিছু বিধি তৈরি করছেন, এঁকে দিচ্ছেন সীমান্ত রেখা। ভালো কথা। কিন্তু আপনার স্বামী অথবা সঙ্গী যে সেই সীমান্তের ভেতরে তুষ্ট থাকবেন, সে নিশ্চয়তা কে দেবে? তাকে কি সেভাবে আপনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন ও আপনার বেঁধে দেয়া আচরণবিধি হয়তো আকর্ষণীয়। কিন্তু সঙ্গীটি কেন সেই বিধি মেনে চলবে?
স্বামী অথবা সঙ্গীটি যদি আরেকটি সম্পর্ক বজায় রাখেন, আসক্ত হন, পরিবারের চেয়ে কর্মক্ষেত্র অথবা অন্যত্র বেশি আগ্রহী হন, তাহলে ব্যাপারটি এমন নয় যে বিধি অথবা নিয়মের অভাবে তিনি এমন। বরং নিয়মের চৌহদ্দির ভেতরে সুখী হতে প্রেরণার অভাবেই তিনি এমন।
আপনার সঙ্গীটি ঠিকই জানেন যে তার কাজটি ভুল। তার যে অনুতাপ হয় না, তা নয়। সমস্যা হলো, তার মনের ভেতরে সুপথে আসার, শুদ্ধ হওয়ার তাগিদ নেই। শর্ত বা সময় বেঁধে দিলে বাইরে থেকে তাগিদ দেয়া হয়, ভেতরে তাড়নার বিষয়টি উহ্যই থাকে।
সঙ্গীকে সুপথে আসতে প্রাণিত করতে তার সঙ্গে যোগ তৈরি করা জরুরি। এ যোগের ব্যাপারটি মানুষের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জীবন শুরু হয় যোগ থেকে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নাড়ির বাঁধন কেটে সেই যে যোগ ছিন্ন হয়, আমৃত্যু তার খোঁজে মানুষ তাড়িত হয়। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে যখনই সে ওই যোগের অভাব বোধ করে, তখন নতুন কিছুর সন্ধানে ধাবিত হয় সে। এজন্যই আসক্তি, অনাচার, নতুন নতুন সম্পর্কে সুখ খোঁজা, অর্থ-বিত্ত-খ্যাতি-কাজের পেছনে হন্যে হয়ে ঘোরা। এতে সাময়িকভাবে একটি পরিপূর্ণতার বোধ আসে। কিন্তু আখেরে শূন্যতা রয়েই যায়।
আপনার সঙ্গীর সঙ্গে যদি এ সত্যিকার ‘যোগ’ আপনি সৃষ্টি করতে পারেন, তাহলে সম্পর্কটি যেমন সুরক্ষা পায়, তেমনি তার জীবনেও পূর্ণতা আসে। আপনার সঙ্গে পরিচয়ের আগেও তিনি যে সংকট বোধ করতেন, যে বদভ্যাস অব্যাহত রেখেছিলেন, তার ইতি টানা সম্ভব হয়।
দেখা যায়, সচরাচর ‘অসংযুক্ত’ অথবা ‘বিযুক্ত’ মানুষই নিজের মতো অন্য কারো সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়। হতে পারে, আপনার সঙ্গীটিকে বেছে নিয়েছেন, কারণ আপনি নিজেও ‘বিযুক্ত’ ধরনের মানুষ। সঙ্গীর সঙ্গে সত্যিকার কোনো যোগ আপনাকে সৃষ্টি করতে হয়নি বলেই আপনি তাকে বেছে নিয়েছেন। অনপক্ষও তেমনি। আপনার সঙ্গীটি এমন কিছুর সন্ধান করেনি, যা আপনার দেয়ার অসাধ্য। আপনিও তাই।
তাহলে সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে আপনার কী করা চাই, জেনে নিন। খুব সোজা। সঙ্গীর সঙ্গে যোগ সৃষ্টির সূত্র খুঁজুন। তার পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা ছাড়াই আপনাকে কাজটি করতে হবে। এ চেষ্টায় একবার নিরত হলেই পেয়ে যাবেন তাকে প্রভাবিত করার চাবিকাঠি। এভাবে আপনার হস্তগত হবে অনেক বিষয়। সম্পর্কের সেই সুঁইসুতো ধরেই বেঁধে রাখতে পারেন সংসার, সম্পর্ক
from Daily Bangla http://bit.ly/2Eeoq3B
Labels:
Entertainment


No comments: