আবেগকে বস করুন এই ৩ উপায়ে!
নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রন করা… সম্ভবত এটাই পৃথিবীর সবচাইতে কঠিন কাজ। হয়তো চারপাশের সব যুক্তি বাস্তবতা সবই বুঝতে পারছেন, তবু মনকে মানানো যায় না। হরহামেশাই বিষন্নতা গ্রাস করে বসে মনে যেন সামনে এগোতেই দেয় না। আবেগ ছাড়া যেমন জীবন চলে না, তেমনি আবেগ দিয়েও জীবন চলে না। বুঝতেই পারছেন এই দুইটি বিষয় না পারে একজনকে ছেড়ে একজন চলে যেতে, না পারে ধরে রাখতে।
অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন যে, একজনকে শাষন করার মানে এই নয় যে, তাকে সবসময় নিয়ন্ত্রন করতে হবে। হ্যাঁ, জীবনে আবেগ থাকতে হবে। তবে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত। অতিরিক্ত আবেগ কখনই জীবনের জন্য ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসে না। এই আবেগের কারণেই মানুষ জীবনে এমন সব সিদ্ধান্ত নেন যা জীবনের উপর অনেক খারাপ কিছু বয়ে নিয়ে আসে।
সবসময় সবাইকে নিয়ন্ত্রন করার ইচ্ছা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল না। এটা সবসময় কাজও করে না। আবেগ থেকে আমাদের দূরে নেওয়ার অর্থই হল জীবন থেকে আমাদেরকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়া এবং জীবনকে একাকীত্বের কবলে ফেলে দেওয়া।
সত্যিকার অর্থে বলতে কি, আমাদের আবেগই আমাদের মানুষ হিসেবে তৈরী করে। আবেগের সাথে থাকা মানে নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রনে থাকা। শুধুমাত্র আমাদের নেতিবাচক আবেগ নিয়ন্ত্রন করতে পারলেই আমরা সুখী এবং সুস্থ জীবন যাপন করা যাবে।
এর জন্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই নিজের অনুভূতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে সামনে এগিয়ে যেতে পারব। এর সবগুলোই যে আপনার জন্য সঠিকভাবে কাজ করবে এমন নয়, তবে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে। চলুন এরই মধ্য থেকে দেখে নেওয়া যাক কিছু প্রয়োজনীয় উপায়।
১.আত্মবিশ্বাসী হোন:
যে কোন কাজ ধীরে ধীরে করার চেষ্টা করুন। আমাদের মাঝের অনেকেই আমরা জানি না যে, অবচেতন মনে আমাদের ভিতরে কি চলছে। তাই কোথাও একাগ্রচিত্তে কোথাও চুপচাপ বসেন। অথবা আপনার মিউজিক প্লেয়ার বা সেলফোন রেখে প্র্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যান। একটা গভীর শ্বাস নিন। আপনার শরীরের অস্বস্তির কারন খুঁজে বেড় করার চেষ্টা করুন। আপনার মন কী চায়-এই অনুভূতি খোঁজার চেষ্টা করুন। নিজেকে শুনুন এবং আপনার অনুভূতির ব্যাপারে সৎ হোন। আপনার মনের কথা শুনে আপনি নিজেই অবাক হবেন। তবে এটাও ঠিক যে, বেশি আবেগপ্রবণ মানুষ আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন না। তাই সব চাইতে প্রথমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিন। এতে আবেগের মাত্রা কমে আসবে। স্বার্থপর হতে বলা হচ্ছে না, শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছেটাকে সামান্য গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। এতে করে নিজের প্রতি বিশ্বাস ফিরে পাবেন। আবেগের লাগাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিখুন।
২.নিজের অনুভূতিকে মূল্য দিন:
নিজেকে বুঝুন। মনের গভীরের সচেতন অনুভূতি যা আপনার মনের গহীনে চলছে তা যখন জানবেন তখন সেগুলো গ্রহন করবেন। চিন্তা করে বের করুন আপনি কোন জায়গায় সব চাইতে বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কোন মানুষটি আপনার আবেগপ্রবনতার কারণ কিংবা কোন কাজটি আপনাকে বেশি মাত্রায় আবেগী করে তোলে। আগে নিজের আবেগপ্রবনতার কারণটি খুঁজে বের করুন। যদি সম্ভব হয়ে কারণটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার অতিরিক্ত আবেগ কমে আসবে। দুঃখ কম পাবেন। অনেকক্ষেত্রে সময় মনের ক্ষত পূরণ করতে সহায়তা করে। তেমনই নিজেকে সময় দিন আবেগটাকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। এতে করে আপনার নিজের মন ঠিকই খুঁজে নেবে আপনার কষ্টের কারণ এবং নিয়ন্ত্রণে আনবে আপনার আবেগ।
৩.ইতিবাচক হোন:
নিজেকে আরো বেশী বেশী ইতিবাচক কাজের প্রতি চালিত করুন। আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রনের জন্য আমাদের সবসময় অসুখী হওয়ার চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে সেগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে তৈরী করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে তা এভাবে শুরু কারা যেতে পারে।
ক. গত সপ্তাহে ইতিবাচক যা কিছু করেছেন তার লিপিবদ্ধ লিস্ট তৈরী করুন।
খ. কিছু ইয়োগা করতে পারেন।
গ. কাউকে সহযোগিতা করুন।
ঘ. কোন কাজ করতে না পারলে নিজের তিরোষ্কার করুন।
ঙ. ছুটি নিন।
যত বেশী আপনি এভাবে কাজ করবেন, তত দ্রুত আপনার নিয়ন্ত্রনে আসবে সবকিছু।
আপনার চলাফেরা এবং কাজেকর্মে ধীর, আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক ধ্যান-ধারণা ও অঙ্গভঙ্গি ধরে রাখুন। চেয়ারে যখন বসবেন কাঁধ উঁচিয়ে, মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে সর্বোপরি অন্যের আচরণ দ্বারা আপনার আবেগকে প্রভাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে। অনেকে আবেগপ্রবণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজের কাজ উদ্ধার করে নেয়। তাই আপনাকে সময় বিশেষে না বলা শিখতে হবে তা যত কষ্টই হোক না কেন। এতে করে অযথা কোন ঝামেলায় পরে আবেগী হয়ে ভুল করার প্রবণতা কমবে।
from Daily Bangla http://bit.ly/2VjSt4z
Labels:
Entertainment


No comments: