একটুতেই পেইনকিলার? অজান্তেই নিজের সর্বনাশ করছেন না তো!
হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব হতেই খেয়ে নিলেন পেইন কিলার। ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন অনেকে একটু ব্যথা হলেই পেইন কিলারের দ্বারস্থ হয়ে যান। আর ওষুধের দোকানিরাও প্রেসক্রিপসন ছাড়াই বিক্রি করছেন এসব পেইন কিলার।
কিন্তু জানেন কী নিজের অজান্তেই শরীরের অনেক বড় সর্বনাশ করে ফেলছেন। তাই যখন তখন পেনকিলার বা ব্যথা কমানোর ওষুধ খাওয়া ছাড়ুন। কিডনি অকেজো হতে কিন্তু বেশি সময় নেবে না। এ বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও।
সাধারণত পেনকিলার দু’ধরনের হয়। স্টেরয়েড এবং নন-স্টেরয়েড অর্থাত্ অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগ বা এনএসএআইডি। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো কিছু রোগের ব্যথার নিরাময়ে ডাক্তারের পরামর্শ মেনেই হয়তো অনেকে কড়া ডোজের ব্যথার ওষুধ খান।
কিন্তু এই ধরনের এনএসএআইডি পেনকিলার খেলে অজান্তে ব্লাড প্রেসার বাড়ে, কিডনি অকেজো হয়ে পড়ে। কারও ‘অ্যাকিউট ইনটারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস’ হয়। সেক্ষেত্রে অনেকসময় ডায়ালিসিস দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কয়েকদিন খাওয়ার পর ‘হিমোডায়নামিক মিডিয়েটেড অ্যাকিউট কিডনি ফেলিওর’ হতে দেখা যায়। আবার দীর্ঘদিন ধরে খেলে ‘ক্রনিক রেনাল ফেলিওর’ অর্থাত্ সম্পূর্ণরূপে কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টও করতে হতে পারে।
পেনকিলারের প্রভাব:
কিডনি অকেজো, পেটে ব্লিডিং, গ্যাসট্রিকের সমস্যা, হাই ব্লাড প্রেসার, হার্টে প্রভাব, বুকে ব্যথা অনুভূত হয়৷ ডায়াবেটিক রোগীদের শরীরে দ্রুত প্রভাব পড়ে।
অ্যাসপিরিন জাতীয় লো ডোজের ওষুধ সাধারণত শরীরের ক্ষতি করে না। কিন্তু অ্যাসপিরিনই যখন পেনকিলার হিসাবে দেওয়া হয়, তখন তার মাত্রা বেশি থাকায় তা শরীরে নানাভাবে ক্ষতি করতে পারে। ষাট বছরের উর্ধ্বে ঘনঘন পেনকিলার খেলে তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া দশ বছরের নিচে বাচ্চাদের যে কোনও ব্যথার ওষুধ খাওয়ার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
কী করবেন:
কোনও রোগের ব্যথার জন্য সাময়িক আরাম পেতে প্রথমেই ব্যথার ওষুধ খাবেন না। বরং একটু সহ্য করে সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসা করুন। যদি অত্যন্ত ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কম ডোজের প্যারাসিটামল জাতীয় পেনকিলার খান। যা কিডনির খুব বেশি ক্ষতি করে না। এতে কাজ না হলে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অল্প কয়েকদিন স্টেরয়েড জাতীয় পেনকিলার খেতে পারেন। এই ধরনের পেনকিলার খেলে তন্দ্রাচ্ছন্ন লাগে। কিন্তু এটি প্রাথমিকভাবে সরাসরি শরীরের ক্ষতি করে না।
সতর্ক থাকুন:
হাই প্রেসারের রোগীদের পেনকিলার খাওয়ার বিষয়ে বেশি সতর্ক হওয়া উচিত। যাঁরা নিয়মিত ‘এসিই’ অথবা ‘এআরবি’ ধরনের প্রেসারের ওষুধ খান তাঁদের শরীরে হাই ডোজের পেনকিলার খুব তাড়াতাড়ি প্রভাব ফেলে।
ষাটোর্ধ্বে যাঁরা ডায়াবেটিক রোগী এবং যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাঁদের পেনকিলার খাওয়ার বিষয়ে বেশি সতর্ক হওয়া উচিত। ডায়েরিয়া হলে অনেক সময় পেটের যন্ত্রণায় রোগীদের পেনকিলার খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু ডায়েরিয়া হয়ে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যাওয়ায় পেনকিলার কিডনিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
from Daily Bangla http://bit.ly/2ZVzNqF
Labels:
Entertainment


No comments: