ভেঙে যাওয়া সেইসব প্রেম
রূপালি পর্দায় প্রেম ফুটিয়ে তুলতে একে অন্যের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করতে হয়। অভিনয়ের কাজ ফুরোলে আবারও সাধারণ মানুষ। তারপরও একসঙ্গে কাজ করতে করতে অনেক তারকা সত্যি সত্যিই প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এমন ঘটনা সিনেমা জগতে ভুরি ভুরি। এর মধ্যে কেউ কেউ বাস্তব জুটি বেঁধে নেন। আবার কারো কারো প্রেম অভিনয়ের মতোই হারিয়ে যায় অর্থাৎ কোনো কারণে তাদের সে সম্পর্ক পরিণতি পায় না।
বলিউডের এমন অনেক জুটিই রয়েছেন, যাদের ভেঙে যাওয়া প্রেমের খবর জানে সারা দুনিয়া। তা এখন অতীত, তবে স্মরণীয়। বলিউডের রঙিন জগতের এমন কয়েক জুটির গল্প শোনা যাক এবার।
দিলীপ কুমার-মধুবালা
দিলীপ কুমারের সত্যিকারের নাম ছিল মোহাম্মাদ উইসুফ খান। তার সময়ে তিনিই ছিলেন বলিউডের সুপার হিরো। অসংখ্য রমণীর স্বপ্নপুরুষ ছিলেন তিনি। এই স্বপ্নপুরুষই হাবুডুবু খেতে থাকেন বলিউডের মহিয়সী রমণী এবং তারকা অভিনেত্রী মধুবালার প্রেমে। তাড়াহুড়ো করে এঙ্গেজমেন্টও সেরে ফেলেন তারা। কিন্তু তারপরও তাদের প্রেম শেষ পরিণতিতে পৌঁছায়নি। জানা যায়, বি আর চোপড়ার ‘নয়া দেওর’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন এ জুটি। কিন্তু বেকে বসেন মধুবালার বাপ। তার আপত্তিতে এ সিনেমায় অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানান মধুবালা। আর মধুকে রাজি করানোর দায়িত্ব পড়ে দিলীপ কুমারের ওপর। কিন্তু দিলীপের শত অনুরোধ সত্ত্বেও বাবার অবাধ্য হতে চাননি মধুবালা। ব্যাস। এই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দিলীপ। বিয়ের ঠিক আগে মধুবালাকে অভিনয় ছেড়ে দিয়ে তাকে বিয়ে করার শর্ত বেঁধে দেন তিনি। ওদিকে মধুবালাও শর্ত দিয়ে দিলীপকে বলেন, ‘আমার বাবার কাছে তোমাকে মাফ চাইতে হবে, আর তাহলেই কেবল আমি তোমার শর্তে রাজি আছি।’ এবার বেঁকে বসেন দিলীপ। রাজি হন না তার প্রস্তাবে। ভেঙে যায় তাদের সেই মধুর সম্পর্ক। পরে দুজনের পথ দুদিকে গড়ায় বিয়ে করেন মধুবালা। দিলীপ কুমারও বিয়ে করেন অন্যত্র। মধুবালা বলেছিলেন, দিলীপ যখন সায়েরা বানুকে বিয়ে করে সেটা ছিল আমার জন্যে খুবই কষ্টের সময়। আমি তাকে পাগলের মতো ভালোবাসি আর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভালোবেসে যাব।
রাজ কাপুর-নার্গিস
রাজ কাপুর ও নার্গিসের প্রেম সত্যিই শোকাবহ। সিনেমাকেও হার মানায়। রাজ কাপুর ছিলেন বলিউডের শক্তিমান তারকা আর নার্গিস দত্ত সুন্দরী ও মেধাবী অভিনেত্রী। ‘আওয়ারা’ ও ‘৪২০’সহ ষোলটি সিনেমায় একত্রে কাজ করেছেন বলিউডের সফল এ জুটি। রাজ কাপুর ছিলেন বিবাহিত। তার পরেও খুব সহজেই জমে ওঠে তাদের প্রেমলীলা। চারিদিকে চাউর হয়ে যায় তাদের এ সম্পর্কের কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্ত্রী কৃষ্ণা রাজ কাপুর ও সন্তানকে উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি রাজ কাপুরের।
পরে অবশ্য নার্গিসের জীবন অন্যদিকে মোড় নেয়। রাজ কাপুরের সঙ্গে প্রেম ভেঙে তার জীবনে আসে সুনীল দত্ত। ‘মাদার ইন্ডিয়া’ সিনেমার শুটিং চলার সময় সেটে আগুন লেগে যায়। এ সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নার্গিসকে উদ্ধার করে এ সিনেমার সহঅভিনেতা সুনীল দত্ত। এ ঘটনার পর নার্গিস ঝুঁকে পড়েন তার দিকে। তারা বিয়ে করে সংসারী হন। বিয়ের বহুদিন পর নার্গিস বলেন, আমি আমার সুখের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছি।
অমিতাভ-রেখা
অমিতাভ-রেখার ভালোবাসার গল্পটা এখনও দারুণ আলোচিত বলিউডপাড়ায়। সেসময় অমিতাভের অতটা নামডাক হয়নি। কেবলই উঠতি তারকা। রেখা ছিলেন দক্ষিণের অভিনেত্রী। বলিউডে ক্যারিয়ার গড়ার পথ খুঁজছিলেন রেখা। এরপর ইয়াশ চোপড়ার ‘সিলসিলা’ সিনেমা তাদেরকে (জয়া-অমিতাভ আর রেখা) ফেলে দেয় ত্রিমুখী এক প্রেমের সঘর্ষে। এরপর ‘আনযানি’ সিনেমা করার পর তাদের প্রেমের খবর মানুষের মুখে মুখে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে তাদেরকে একসঙ্গে দেখাও যায়। এই সব গুঞ্জনের এক পর্যায়ে জয়াকে বিয়ে করে ফেলেন অমিতাভ।
এরপর একবার পাগলামি করে নিতু সিং ও ঋষি কাপুরের বিয়ের অনুষ্ঠানে লাল সিঁদুর পরে উপস্থিত হন রেখা । অমিতাভের স্ত্রী জয়া রেখাকে বাড়িতে ডিনারের আমন্ত্রণ জানান এবং সবকিছু ভুলে যাওয়ারও পরামর্শ দেন।
মজার ব্যপার হচ্ছে, ১৯৮৪ সালে একটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিনে রেখা তার ভেঙে যাওয়া প্রেমের সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকার দেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, অমিতাভ কেন তার সঙ্গে এমন করলেন? রেখা বলেন, সে তার ইমেজ, এবং পরিবারকে রক্ষা করার জন্যে এটা করেছে। তিনি আরো বলেন, আমি তাকে ভালোবাসি আর আমার ধারণা সেও আমাকে অনেক ভালোবাসে। এসময় রেখা আরো জানান, অমিতাভ কাউকে কষ্ট দিতে চায়নি।
সঞ্জয় খান-জিনাত আমান
এ জুটির প্রেমের সূচনা হয় ১৯৮০ সালে। তখন তারা ‘আবদুল্লাহ’ সিনেমার শুটিং করছিলেন। সঞ্জয় ছিলেন বিবাহিত। তার স্ত্রী জেরিন খান তখন গর্ভবতী। ঠিক ওই সময়ই তিনি জড়িয়ে পড়েন জিনাতের প্রেমে। সঞ্জয়ের স্ত্রী জেরিন একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, এ ঘটনা শোনার পর আমি হতভম্ভ হয়ে পড়ি এবং তাকে সতর্ক করে দিই।
তাদের এ সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।
মুম্বাইয়ের তাজমহল হোটেলে সঞ্জয় তার স্ত্রী ও বন্ধুদের সঙ্গে একটি রুমে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জিনাত সেখানে উপস্থিত হলে, সঞ্জয় ও তার স্ত্রী মিলে ভীষণভাবে মারধর করেন জিনাতকে। আহতবস্থায় তাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়।
এর অনেকদিন পর টিভি সিরিয়াল ‘সোর্ড অব টার্জানে’র শুটিং করতে গিয়ে আগুনের মধ্যে পড়ে যান সঞ্জয় খান। এতে তার শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। অনেকে ধারণা করেন, এটা জিনাতের অভিশাপের ফল।
সালমান খান-ঐশ্বরিয়া রাই
সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমার শুটিং স্পট থেকেই শুরু হয় সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের বিখ্যাত প্রেমকাহিনী। ১৯৯৯-২০০১ সাল পর্যন্ত সালমানকে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় সাবেক এই বিশ্বসুন্দরীর সঙ্গে। তাদের এই কঠিন প্রেমের পরিণতিও শেষ পর্যন্ত জোড়া লাগানো গল্পে রূপ নিতে পারেনি। এজন্য সালমানের নানা অভিযোগ আর সন্দেহপ্রবণ মনোভাবকেই দায়ী করেন ঐশ্বরিয়া। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সালমানের প্রচণ্ড ক্ষোভের মুখে পতিত হন অ্যাশ। এমনকি শাহরুখের সঙ্গে ‘চলতে চলতে’ সিনেমায় অভিনয় করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সালমানের কারণেই তিনি সেটি বাতিল করেন। পরে সেখানে যুক্ত হন রানী মুখার্জি।
২০০২ সালে টাইমস অব ইন্ডিায়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘গত মার্চ মাসে আমাদের ব্রেক-আপ হয়েছে। ব্রেক-আপের পর সালমান আমাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমার সঙ্গে সহঅভিনেতাদের সম্পর্ক আছে বলে দাবি করেছে। তবে আমি অভিষেক থেকে শাহরুখ সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চাই।
এর কিছুদিন পর ঐশ্বরিয়াকে দেখা যায় ভিবেক অবেরয়ের সঙ্গে ডেটিং করতে। তারও কিছুদিন পর আবার প্রেমে পড়েন অভিষেক বচ্চনের এবং বিয়ে করে নেন তড়িঘড়ি করে। এটি ছিল সালমানের জন্য দারুণ কষ্টের।
অক্ষয়-শিল্পা শেঠি
বেশ কয়েকটি সিনেমায় একত্রে কাজ করেছেন অক্ষয় ও শিল্পা শেঠি। তাদের গল্পের শুরুও শুটিং স্পট থেকে। তবে বলিউডের ‘সিজোনাল লাভার’খ্যাত অক্ষয় শিল্পা ছাড়াও রাভিনা টেন্ডন, পুজা বাত্র, মমতা কুলকার্নিসহ প্রেম করেছেন বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে। আর এ বিষয়টি বেশি দিন গোপন থাকেনি শিল্পার কাছে। যখন তিনি বুঝতে পারলেন, অক্ষয় তার সঙ্গে চিট করছে তখনই থেমে যায় তাদের এই প্রেমের গল্প।
পরবর্তীতে টুইঙ্কেল খান্নাকে বিয়ে করেন অক্ষয়। আর শিল্পা গাটছাড়া বেঁধেছেন রাজ কুন্দ্রার সঙ্গে। আর দুজনেই সুখের সংসার করছেন।
অভিষেক বচ্চন-কারিশমা কাপুর
অভিষেক বচ্চন আর কারিশমা কাপুরের প্রেমের গল্পটা কিছুটা রহস্যপূর্ণ। তবে ব্যর্থও। কারিশমা ছিলেন স্টার আর নায়ক হিসেবে অভিষেকের অভিষেকই হয়নি। এমন সময় থেকেই গড়ে ওঠে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। এরপর সিনেমায় অভিষেকের পর পরিচয় হয় কারিশমার ছোট বোন কারিনার সঙ্গে ‘রিফিউজি’ সিনেমার মাধ্যমে।
অমিতাভের ৬০তম জন্মদিনের জমজমাট পার্টিতে এঙ্গেজমেন্ট হয় তাদের। কিন্তু কয়েক মাস পরই হঠাৎ তাদের বিয়েটি বন্ধ হয়ে যায়। তাদের ব্রেক-আপের কারণ হিসেবে বাতাসে ভাসতে থাকে বেশ কয়েকটি গুঞ্জন। বিয়ের পর সিনেমা ছাড়াসহ সাহারা গ্রুপের চেয়ারম্যান শুব্রত রায়ের সঙ্গে কারিশমার ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন ছড়ালে শেষ পর্যন্ত বিয়েটা আর সফলতা পায় না।
এরই কিছুদিন পরেই কারিশমা বিখ্যাত ব্যবসায়ী সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করেন। আর অভিষেক ঐশ্বরিয়াকে।
জন আব্রাহাম-বিপাশা বসু
এ জুটির প্রেমের খবর যতটা ছড়িয়েছিল, ততটাই ধীরে ধীরে তা ফিকে হয়ে যায়। প্রায় এক দশক ধরে চুটিয়ে প্রেম করেন তারা। এরপর হঠাৎ করেই যেন নিজেদের সম্পর্কের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন। বিপাশা বলেন, ‘জন তাকে ধোঁকা দিয়েছে’। কিন্তু পরবর্তীতে জন বলেন,লে ‘হলিউড অভিনেতা জোস হারটনেটের সঙ্গে সম্পর্ক আছে বিপাশার।’
রনবীর-দীপিকা পাড়ুকোন
রনবীর-দীপিকার প্রেমের সম্পর্কটা বেশ আলোচিত হয়েছে সম্প্রতি। তাদের প্রেম এই ভারতে তো ওই বিদেশে। প্রেমের খবরে যখন পুরো মিডিয়াপাড়ায় হইচই তখনই হঠাৎ ব্রেক তাদের মধ্যে। দীপিকা বলেছেন, রনবীর আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। আমি ব্যাপারটি ধরতে পেরেছি।
from Daily Bangla http://bit.ly/2JDMH7B
Labels:
Entertainment


No comments: