‘অলৌকিক না লৌকিক’ না ডাইনি- কি দেখবে দর্শক?
স্টার জলসা-র ‘নজর’ হল স্টার প্লাস-এর ওই নামেরই ধারাবাহিকের বঙ্গীকরণ। ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছে এক ডাইনি যার চোখ ভাটার মতো জ্বলে এবং যত্র-তত্র, যখন-তখন গাছ বা দেওয়াল বেয়ে ওঠাই যার অভ্যাস। শুধু তাই নয়, সারাক্ষণ তার একটাই ধান্দা, কী করে তার বোনের ও বোনের পরিবারের ক্ষতি করা যায়। ‘নজর’-এর মতো ধারাবাহিক দেখতে বসলে বিজ্ঞান-সচেতন দর্শকের বার বার মনে হতেই পারে– কেন, কীসের জন্য? আর কী সত্যই কিছু করার ছিল না? কিন্তু মজার ব্যাপার হল, একদিকে যেমন ‘নজর’-এর ডাইনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে টেলিপর্দা, অন্যদিকে তখন ওই চ্যানেলই নিয়ে আসতে চলেছে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ধারাবাহিক।
কিছুদিন আগেই স্টার জলসা-র ফেসবুক পেজে মুক্তি পেয়েছে ‘অলৌকিক না লৌকিক’-এর প্রথম প্রোমো। সেটি দেখে যা বোঝা গিয়েছে, নানা ধরনের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানের লড়াই– এটিই হল নতুন ধারাবাহিকের ইউএসপি। খুবই সাধুবাদযোগ্য উদ্যোগ নিঃসন্দেহে। কিন্তু মুশকিল হল, যে দর্শক ‘নজর’ ধারাবাহিকে ডাইনির অভিশাপে মৃত্যু দেখতে অভ্যস্ত, তিনি যখন ‘অলৌকিক না লৌকিক’-এ তুকতাকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় চরিত্রদের রুখে দাঁড়াতে দেখবেন, তখন তিনি ঘাবড়ে যাবেন না তো?
দর্শক যা পছন্দ করেন, তাদের যা দেখতে ভাল লাগে, সেই অনুযায়ীই নাকি তৈরি হয় টেলিপর্দার অনুষ্ঠান। বাংলা টেলিপর্দার বেশিরভাগ ধারাবাহিকে যে সাংসারিক জটিলতা দেখা যায়, তার প্রধান কারণ হল এই জাতীয় কোন্দল টেলিপর্দায় দেখতে পছন্দ করেন, এমনটাই বলেন টেলিপাড়ার লেখক-চিত্রনাট্যকারেরা। আর সেটা মিথ্যা নয় কোনওভাবেই। কারণ সেই জাতীয় ধারাবাহিকের টিআরপি ভাল থাকে। কিন্তু তা বলে ডাইনি ও বিজ্ঞান এক প্লেটে?
বাংলা টেলিভিশনের দর্শক কিছু জানেন না বা বোঝেন না, এমনটা নয়। তাঁরা সবটাই কাল্পনিক বলে, বিনোদন হিসেবে দেখবেন, সেটা যদি ধরেও নেওয়া যায়, তাহলেও কিন্তু বিষয়টা বিরোধাভাসের। আচ্ছা এমনটা হবে না তো যে শেষমেশ ‘নজর’-এর ডাইনি তাড়াতে ‘অলৌকিক না লৌকিক-এর টিমই এসে পৌঁছল। আজকাল দু’টি ধারাবাহিকের গল্প মিলিয়ে মহাএপিসোড করার রেওয়াজ হয়েছে। বাংলাতে তার নজির যদিও কম, জাতীয় স্তরেই বেশি। এক্ষেত্রে তেমনটা হলে কিন্তু ব্যাপারটা মন্দ হবে না! একটি অসাধারণ দৃষ্টান্তমূলক ব্যাপার হবে।
Labels:
Entertainment


No comments: