‘রিয়্যালিটি শো-তে অশালীন হতে দেবেন না শিশুদের’, উপদেশ কেন্দ্রের
টেলিপর্দার ডান্স রিয়্যালিটি শো-তে শিশুদের অংশগ্রহণ নিয়ে একশ্রেণির দর্শকের মধ্যে তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। আবার আর এক শ্রেণি উপভোগ করেন এই ধরনের শো। দ্বিতীয় শ্রেণির দর্শক সংখ্যায় বেশিই সম্ভবত কারণ তা না হলে এই ধরনের শো-গুলির ভাল টিআরপি থাকত না এবং সেই ধরনের দর্শক টানতে উদ্যোগী হত না বেসরকারি চ্যানেলগুলি। মঙ্গলবার ১৮ জুন, কেন্দ্রীয় তথ্য় ও সম্প্রচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি অ্যাডভাইসরি পাঠানো হয় দেশের বেসরকারি চ্যানেলগুলিকে। ওই পরামর্শ-বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে সাম্প্রতিক রিয়্যালিটি শোগুলিতে শিশুদের অনুপযুক্ত ব্যবহার, বিশেষ করে নাচের সময় প্রাপ্তবয়স্কদের অনুকরণ নিয়ে যা অনেকক্ষেত্রেই অশালীন।
বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ডান্স রিয়্যালিটি শো-তে শিশুদের ব্যবহার যাতে যথাযথ থাকে সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওই বার্তায় লেখা হয়েছে, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক লক্ষ্য করছে যে বেশ কিছু ডান্স রিয়্যালিটি শো-তে শিশুদের এমন কিছু নৃত্যভঙ্গিমা থাকছে যেগুলি সিনেমায় ও অন্যান্য জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্করা করেছেন। ওই জাতীয় নৃত্যভঙ্গিমা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইঙ্গিতপূর্ণ ও একেবারেই শিশুদের বয়সোচিত নয়। ওই ধরনের নাচ শিশুদের মনে অত্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সমস্ত বেসরকারি চ্যানেলগুলিকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে তারা যেন ১৯৯৫ সালের কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস (রেগুলেশন) আইনের প্রোগ্রাম অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং কোডস-এর নিয়মাবলী অনুসরণ করেন। ওই নিয়মাবলীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টিভির পর্দায় এমন কোনও অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা যাবে না যা শিশুদের পক্ষে অবমাননাকর ও যে সমস্ত অনুষ্ঠানে কোনও অশালীন ভাষা বা খোলামেলা হিংসার দৃশ্য রয়েছে, সেই সব অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণ বাঞ্ছনীয় নয়।’
কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস (রেগুলেশন) আইনের ওই বিশেষ নির্দেশাবলীর কথা আরও একবার স্মরণ করিয়ে, বেসরকারি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ওই বার্তায় জানানো হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলগুলি যেন এই বিষয়ে সতর্ক থাকেন। ডান্স রিয়্যালিটি শো বা অন্যান্য কোনও অনুষ্ঠানে অশালীন, ইঙ্গিতপূর্ণ ও অনুপযুক্ত পদ্ধতিতে শিশুদের যাতে ব্যবহার না করা হয়, সেই বিষয়ে সংবেদনশীল হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে চ্যানেলগুলিকে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের ওই বার্তায় বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি চ্যানেলগুলিকে পরামর্শ তারা যেন ওই ধরনের রিয়্যালিটি শো বা অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন। ‘
বাংলা টেলিপর্দায় ডান্স রিয়্যালিটি শো বলতে প্রথমেই মাথায় আসে জি বাংলা-র ‘ডান্স বাংলা ডান্স জুনিয়র’-এর কথা। এখনও পর্যন্ত শিশুদের ডান্স রিয়্য়ালিটি শো হিসেবেই ওই অনুষ্ঠানটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সমসাময়িক বাংলা বিনোদন জগতের বেশ কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী ওই মঞ্চ থেকে উঠে এসেছেন। এই নির্দেশিকার বিষয়ে তবে কী ভাবছেন জি বাংলা কর্তৃপক্ষ? এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা-র পক্ষ থেকে জি এন্টারটেনমেন্ট লিমিটেডের ইস্টার্ন ক্লাস্টারের বিজনেস হেড সম্রাট ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ”আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের এই বার্তাকে সম্মান জানাই। তাঁদের এই পরামর্শ আমরা অবশ্যই মাথায় রাখব।”
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের ওই বার্তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল প্রাপ্তবয়স্কদের অনুকরণ। সিনেমার আইটেম সং ও রোমান্টিক নাচের দৃশ্যগুলি অনুকরণ করতে বলা হয় শিশুদের, টেলিপর্দার ডান্স রিয়্য়ালিটি শো-গুলিতে। সেই নাচের কোরিওগ্রাফিতে বেশ কিছু যৌনতার ইঙ্গিতপূর্ণ ভঙ্গিমা থাকে যা একেবারেই শিশুদের বয়সোচিত নয়। এই ধরনের অনুকরণ থেকে কি শিশুমনে মানসিক বিকৃতির উদয় হতে পারে? কলকাতার শ্রী শিক্ষায়তন স্কুলের মনোবিদ্যর শিক্ষিকা ও স্কুল কাউন্সেলর নীলাঞ্জনা গোস্বামী এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা-কে জানালেন, ”সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যখন কোনও বাচ্চাকে বলা হচ্ছে, মুখের এক্সপ্রেশনটা এরকম করো বা নাচতে নাচতে নীচের ঠোঁটটা কামড়ে ধরো, সে প্রশ্ন করতেই পারে কেন। একজন কাউন্সেলর তাকে যেভাবে বোঝাবেন, একজন কোরিওগ্রাফার তো আর সেভাবে বোঝাতে সক্ষম হবেন না, আর সেই না বোঝা থেকেই শিশুদের মনে নানা ধরনের জটিল প্রভাব পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের রিয়্যালিটি শো-গুলি শিশুদের এক ধরনের অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ঠেলে দেয়, যা কখনওই কাম্য নয়।”
Labels:
Entertainment


No comments: