Politics

[Politics][bleft]

West Bengal

[West Bengal][grids]

World

[World][bsummary]

National

[National][twocolumns]

সৌমাল্যের 'বিদ্রোহ'


অভিনেতা সৌমাল্য দত্ত কে তাঁর জীবন কাহিনী-কিভাবে শুরু করেছিলেন পথ চলা জানতে চাইলে,অভিনেতা জানান  যে, " ছোটবেলায় কোনওদিনই অভিনেতা হবো ভাবিনি,বরং স্বপ্ন দেখতাম সুপারহিরো হওয়ার,কল্পনা করতাম একদিন বড়ো হয়ে আকাশ ছোঁব,আকাশে উড়ে এক বাড়ি থেকে আর এক বাড়ির  ছাদে গিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার করব। সময় তখন ১৯৯৮, দূরদর্শনে রবিবার করে শক্তিমান হত,একটা এপিসোড ও ছাড়তাম না। বিদেশী সুপারহিরোদের মধ্যে প্রিয় ছিল ব্যাটমান। ধীরে ধীরে বড়ো হলাম,বুঝলাম বাস্তব জীবনে সুপারহিরো হওয়া সম্ভব নয়। একটাই জীবন আছে যেখানে আমি আমার কল্পনার ডানা মেলে উড়তে পারব,সুপারহিরোর পোশাক পরে দশতলা বাড়ির ছাদে দাড়াতে পারব। আর তা হল অভিনয়ের জীবন,সিনেমার জীবন। ব্যাস সেই থেকেই অভিনয়ের প্রতি টান অনুভব করলাম। যোগ দিলাম পাড়ার শখের নাট্যদলে। পড়াশোনায় বরাবরি ভাল ছিলাম,স্কুলের পরীক্ষায় প্রথম তিনের মধ্যে থাকতাম। সব বাঙালি বাড়ির নিয়ম মতো তাই বিজ্ঞান নিয়ে পড়া শুরু করলাম,পরে দেশের অন্যতম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শিবপুরের বেসুতে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার   সুযোগ হল। কিন্তু মন পরে রইল অভিনয়ে,ততদিনে অবশ্য মনে প্রানে আমি একজন অভিনেতা,দিনরাত নিজেকে নাট্যমঞ্চে,ছোটপর্দা,বড়োপর্দায় দেখতে মন চাইছে। কলেজের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস কামাই করে ছুটতাম টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় অডিশন দিতে,যদি কোনোমতে একটা সুযোগ পাওয়া যায়। এমনকি সেমেস্টারের পরীক্ষা না দিয়েও কোনও কোনওদিন চলে যেতাম কোনও অভিনয়ের ওয়ার্কশপে বা একাডেমিতে নাটক দেখতে। ফলস্বরূপ যথারীতি পরীক্ষায় একাধিক সাপ্লী পেলাম। কিন্তু তাতেও অভিনয়ের সাধনায় কোনো খামতি ছিলনা,যুক্ত হলাম পেশাদার নাট্যদল স্বপ্নালুতে,কলেজে নিজেরা মিলেই খুললাম বেসু ড্রামা ক্লাব। একের পর এক নাটক মঞ্চস্থ করতে লাগলাম। পুরষ্কারপ্রাপ্তি ও হতে থাকল বিভিন্ন নাট্য প্রতিযোগিতায়। কলেজের যে শিক্ষকরা আমায় ফাঁকিবাজ ছাত্র হিসাবে অপছন্দ  করত,তারাই একদিন আমার অভিনয়ে দেখে ধীরে ধীরে আমায় আপন করে নিল,পেলাম ইউনিভার্সিটির শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরষ্কার। সেই দিনটি আমার কাছে স্মরণীয়। এরপর কলেজের বাইরের জগৎ-এ প্রবেশ করে দেখলাম এ্তদিনের চেনা জগৎটার থেকে এটা আরো বেশি রুক্ষ কঠোর,চারিদিকে নানারকম ফাঁদ । ওদিকে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ল কাঁধে,অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন সেখানে বিলাসিতা মাত্র। বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারী সংস্থায় চাকরি নিতে হল,কিন্তু মন কিছুতেই সেখানে টেকে না,কাজে গাফিলতি হয়। তিন বছরের মাথায় একদিন হঠাৎ দুমকরে চাকরিটা চলে গেল। মনেমনে স্থির করলাম, একবার যখন চাকরীটা চলেই গেছে,আর কোনওদিন ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাকরি করবনা। কিন্তু তাহলে করব কি? রোজগার কি করে হবে?আবার স্টুডিও পাড়ায় ঘুরতে শুরু করলাম,দীর্ঘ কয়েক বছর পর আবার অভিনয়ে জগতে প্রত্যাবর্তন করে সবই কেমন অচেনা অজানা লাগতে শুরু করল,কিছু প্রতারকের খপ্পরে পড়লাম,তারা আমায় ভালো সুযোগ পাইয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নানান ভাবে আমায় ঠকালো,ভীষন আঘাত পেয়েছিলাম সেদিন। ঠিক সেই সময় আমায় সাহায্য করল পরিচালক স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার, আমায় সুযোগ দিল সেই সময়ের হায়েস্ট টিআরপির মেগা সিরিয়াল স্টার জলসার পটল কুমার গানওয়ালাতে, এরপর থেকেই স্বর্ণদার সাথে আমার দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক হয়ে যায়।একে একে কাজ করি স্বপ্ন উড়ান”, “ছদ্মবেশী” ,“প্রথম প্রতিশ্রুতি” ,“জয় কালী কলকাত্তায়ালীর মতন ধারাবাহিকে। প্রতিষ্ঠা করলাম নিজস্ব স্বাধীন প্রোডাকশন হাউজ ফিল্মানিয়া এন্টারটেনমেন্ট ও অভিনয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ফিল্মানিয়া এক্টিং ওয়ার্কশপ,যার মাধ্যমে নতুন অভিনেতা অভিনেত্রীদের অভিনয়ের তালিম দিয়ে নিজেদেরই প্রোডাকশনের শর্টফিল্ম,ওয়েবসিরিজে সুযোগ দেওয়া হয়।এই বছরেই বড়ো পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছি অভীরুপ ঘোষের ছবি ব্রহ্মদৈত্য”-তে নাম ভূমিকায়। নিজেরই প্রোডাকশনে নির্মাণ করলাম বাংলার প্রথম সুপারহিরো বিদ্রোহী। কে বলে স্বপ্ন সত্যিই হয়না?ছোট্টবেলায় দেখা সেই সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন আজ এইভাবে সত্যি হল।  এইভাবেই সকলের ভালবাসা ও আশীর্বাদে ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই।"

No comments: