Politics

[Politics][bleft]

West Bengal

[West Bengal][grids]

World

[World][bsummary]

National

[National][twocolumns]

যৌন নিপীড়নের পৈশাচিক থাবা থেকে সন্তান কে বাঁচান



নিজস্ব প্রতিনিধিঃ    বাচ্চাদের যৌন নিপীড়ন শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রেই নয় ছেলেদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। যৌ ন নিপী’ড়নের ৭০ শতাংশই ঘটনা ঘটে পরিবারের মধ্যে বা পরিচিত মহলে৷ এর পরেই আসে স্কুল বা অপরাপর প্রতিষ্ঠান৷ বহুক্ষেত্রে মায়েরা সময়মতো হস্তক্ষেপ করেন না বলে নিপী’ড়ন চলতে থাকে৷





জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অর্ধেকেরও বেশি বাচ্চা যৌ ন নিগ্রহের শিকার৷ তবে সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য হলো, নাবালিকা বা বাচ্চার ওপর যৌ ন হেনস্থার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে পরিবারের মধ্যে, পরিবারেরই কোনো মানসিক বিকারগ্রস্ত সদস্যের হাতে৷ তাই সে সব ঘটনা পুলিশের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, হচ্ছে না কোনো ডাইরি অথবা মামলা৷





হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব

এভাবে প্রতিদিন বিকৃত যৌ ন নির্যাতনে হারিয়ে যাচ্ছে অগুন্তি শৈশব৷ অনেকক্ষেত্রেই বাচ্চারা বুঝে উঠতে পারছে না, বলে উঠতে পারছে না তাদের অমানবিক সেই সব অভিজ্ঞতার কথা৷ তাই বাচ্চাদের প্রতি যৌ নাসক্ত, বিকৃত মানুষগুলো থেকে যাচ্ছে লোকচক্ষুর আড়ালে৷ সমাজবিদরা বলছেন, এ জন্য আগাম সতর্কতার দায়িত্ব নিতে হবে অভিভাবক এবং স্কুলের৷ বাচ্চাকে দিতে হবে তার প্রাপ্য শৈশব৷





যেভাবে বোঝাবেন বাচ্চাদের

সহজ ভাষায় খেলা বা গল্পচ্ছলে বাচ্চাদের এ বিষয়ে একটা ধারণা গড়ে তোলা যেত পারে৷ বাচ্চাদের বলতে হবে যে, তাদের শরীরটা শুধুমাত্র তাদের৷ অর্থাৎ কেউ যেন তাদের ‘গোপন’ জায়গায় হাত না দেয়৷ তাই কোনো আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তির আচরণ অস্বস্তিকর ঠেকলে, কেউ তাদের জোর ঘরে কোনো ঘরে নিয়ে গেলে, খেলার ছলে চুমু দিলে বা শরীরের কোথাও হাত দিলে – তা যেন মা-বাবাকে জানায় তারা৷





চিনিয়ে দিন যৌ নাঙ্গ

অনেক বাবা-মা নিজ সন্তানের সঙ্গে যৌ নাঙ্গ নিয়ে কথা বলতে কুণ্ঠা বোধ করেন৷ কিন্তু এই লজ্জা কাটিয়ে উঠতে হবে এবং খুব ছোটবেলাতেই ছবি এঁকে অথবা গল্পে-গানে বাচ্চাকে তার শরীরের অন্য সব অঙ্গের মতো যৌ নাঙ্গ, লি ঙ্গ ইত্যাদি চিনিয়ে দিতে হবে৷ এমনটা করলে কেউ যদি তাদের সঙ্গে পিশাচের মতো ব্যবহার করে, তাহলে বাচ্চারা সহজেই বলতে পারবে কে, কখন, কোথায় হাত দিয়েছিল৷





বাচ্চার কথা শুনুন, 

প্রত্যেকের কাছে তার সন্তান অনেক প্রিয়। কেউ চাইনা কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা বাচ্চাদের সাথে ঘটুক।আপনার বাচ্চা যদি পরিবারের কাউকে বা আপনার কোনো বন্ধুকে হঠাৎ করে এড়িয়ে যেতে শুরু করে অথবা আপনাকে খুলে বলে বিকৃত সেই মানুষের কৃতকর্মের কথা, তবে সময় নষ্ট না করে বাচ্চাটির পক্ষ নিন আর তিরস্কার করে বাড়ি থেকে বার করে দিন ঐ ‘অসুস্থ’ লোকটাকে৷।





স্কুলেরও দায়িত্ব আছে

বাচ্চারা দিনের অনেকটা সময় স্কুলে কাটায়৷ তাই যৌ ন শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুলের একটা বড় দায়িত্ব থেকে যায়৷ তবে স্কুলের মধ্যে, বিদ্যালয় চত্বরেও ঘটতে পারে শিশু নির্যাতনের ঘটনা৷ তাই স্কুল থেকে ফেরার পর বাচ্চা যদি অতিরিক্ত চুপচাপ থাকে, একা একা সময় কাটায় বা পড়াশোনা করতে না চায়, তাহলে ওর সঙ্গে কথা বলুন৷ জানতে চান কী হয়েছে, প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও জানান৷





ছেলে-মেয়ে সমান

আমাদের সমাজে ছোট থেকেই মেয়েদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়৷ মেয়ে হলেই হাতে একটা পুতুল আর ছেলে হলে ধরিয়ে দেয়া হয় বল বা খেলনার পিস্তল৷ ছেলের পাতে যখন তুলে দেয়া হয় মাছের বড় টুকরোটা, তখন মেয়েটির হয়ত এক গ্লাস দুধও জোটে না৷ এ বৈষম্য বন্ধ করুন৷ বাবা-মায়ের চোখে ছেলে-মেয়ে সমান – সেভাবেই বড় করুন তাদের৷ তা না হলে নারীর ক্ষমতায়ন হবে কীভাবে? কীভাবে কমবে বাচ্চা নির্যাতন? বাচ্চারা বিকৃতকাম মানুষের সহজ শিকার৷ অনেক সময় বাচ্চারা বুঝতে পারে না, চিনতে পারেনা পিশাচের থাবা৷ আর বুঝলেও করতে পারে না প্রতিবাদ, প্রতিরোধ।

No comments: