Politics

[Politics][bleft]

West Bengal

[West Bengal][grids]

World

[World][bsummary]

National

[National][twocolumns]

নীল শাড়িতে ভিজে যায় সবকিছু



খরস্রোত গুপ্ত


উফ সেক্স কথাটা থেকেই কেমন একটা হয় শরীরের মধ্যে...."

- কিরে তিস্তা মন দিয়ে কি লিখছিস?

লেখা থামিয়ে তিস্তা দেখলো সায়ন্তন একটা ব্ল্যাক শার্ট পরে রিস্ট ওয়াচটা খুলছে। বেশ সেক্সি লাগছে। কখন এসে দাঁড়িয়েছে, বুঝতে পারেনি। সায়ন্তন ওর রুম পার্টনার। প্রায় দুবছর একটা ইন্সিডেন্টের ফলে আজ ওরা একসাথে একই ফ্ল্যাট শেয়ার করছে।



- লিখছি একটা গল্প, সেক্সি গল্প। নাম সেক্সে সুড়সুড়ি।

- কি!!! সেক্সে সুড়সুড়ি!
তুই এইসব লিখতে শুরু করলি কবে থেকে।

- হা হা হা। এইসব মানে? পর্নস্টোরি? না না পর্নস্টোরি নয় রে। শুদ্ধ দেশি গল্প। শুধু একটু সেক্সের গন্ধ মাখা।



- বা বা! তা লেখ। কিন্তু আমি ভাবছি তুই কিনা গল্পে সেক্সের গন্ধ মাখাবি। যার আমার মত টল হ্যান্ডসাম গুড লুকিং ছেলেকে দেখেও এত দিনেও সামান্য মনে প্রেমও জাগলো না। হুর...

- তোর অনেক বার জেগেছে বল ?পেরেম না শিরদাঁড়া? নাকি কোনো বিশেষ অঙ্গে...!

- ওরে তুই ঠিক আছিস তো? সুস্থ আছিস তো? যা ভাষা ব্যবহার করছিস। আমার তো এবার ভয় লাগছে।

- ধুর, কি আর ভাষা ব্যবহার করলাম! এখনও কিছুই করিনি। তবে আজ কিন্তু তোকে বেশ সেক্সি লাগছে। কটা মেয়েকে আজ ফাঁসালে গুরু ?




সায়ন্তন এবার একটু গম্ভীর হল। ওর সত্যি একটা কেমন কেমন লাগছে। তিস্তার এই রকম ব্যবহার!! এতটা খোলামেলা ভাবে কথা একটু অদ্ভুত। তিস্তা একটা গাঢ় নীল রঙের শাড়ি পরেই বিছানায় আধশোয়া হয়ে শুয়ে গল্প লিখছিল। অফিস থেকে এসে এখনও ফ্রেশ হয়নি। চোখ দুটো কেমন ঘোলাটে...লাল!!

- কখন ফিরেছিস আজ অফিস থেকে। এখনও ফ্রেশ হসনি!

- ফিরেছি অনেকক্ষণ। হইনি, কারণ আবার আমায় বেড়াতে হবে। তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। (নিরুত্তাপ গলায় বলল তিস্তা)




- আবার বেড়োবি! এত রাতে! কোথায়? কেন?

- এত চিন্তা তুই করিস? আমার জন্য?

- ওহ, তোর মনে হয় করিনা!! দুবছর হতে চলল তুই আমায় এই চিনলি?

- সত্যি আমি চিনতে পারিনা রে। যাইহোক, আমি চলে যাব। আর আসবো না। আমার অবর্তমানে তোর এই ফ্ল্যাটটা নিজের ইচ্ছে মত ব্যবহার করতে সুবিধাই হবে।




- কি সব বলছিস তুই? চলে যাবি! মানে?
আচ্ছা আমার কি কিছু অন্যায় হয়েছে? কিংবা আমি কি তোর মনের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করেছি?

- অন্যায় আমার হয়েছে। তোকে বন্দি করে রেখেছি। তোর যৌবনে চড়া জমে যাচ্ছে আমার জন্য। তুই আমাকে নিয়ে এসেছিলি যে উদ্দেশ্যে সে উদ্দেশ্য কেন পূরণ করতে পারলি না? নাকি আমি অপূর্বর এঁটো বলে তোর আমাকে ছুঁতে ঘেন্না করে?

- ছিঃ কি বলছিস এই সব!

- হ্যাঁ, সেইদিন আমাকে অপূর্বর কাছ থেকে বাঁচিয়েছিলি কেন ? ও আমাকে ছিবড়ে করে ফেলে দিলে তোর মহান হওয়া হতো না বল!




- আমি তোকে ভালবাসি তিস্তা। প্লিজ এই সব আর বলিস না। তুই কোনো দিন আমার ভালবাসা আগেও বুঝিসনি, বুঝবিও না। তাই বলিনি। কিন্তু তোকে বৌ হিসাবে পাওয়ার লোভ সামলাতে পারিনি। তাই তোকে অপূর্বর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে বিয়ে করি। ও তোকে যে দিন আমার এক রাতের সঙ্গী করার লোভ দেখিয়েছিল, সেইদিনই আমি ঠিক করে ছিলাম, তোকে আমি ওর খেলনা হতে দেবো না। পারছিলাম না তোকে শেষ হতে দেখতে, তাই....




- হা হা হা, ওরে হাঁদারাম... এটা কার ডায়েরী দেখ। তুই দেখলি আমি লিখছি, কিন্তু আমার পাশে,খেয়াল করলি না ডায়েরীটা কার!!

- তুই তুই... আমার ডায়েরী পড়েছিস!!

- হুম। আর এটাই আমাকে বলে দিয়েছে তুই কতটা আমাকে ভালবাসিস। আমার শরীর নয়, আমার মন তোকে আজ ছুঁতে চাইছে। কি করি বল!তাই নাটকটা করলাম, যাতে তোর মনের কথা বেরিয়ে আসে। বুঝলে আমার সেক্সি হাবি।

আর কিছু বলার সুযোগ নেই। সায়ন্তন মুগ্ধ হয়ে দেখলো একটা নীল রঙের নদী ওর দিকে ছুটে আসছে, ওকে এবার ডুবিয়ে দেবে...

No comments: