বঙ্গসমাজ তাঁর মোহে আচ্ছন্ন, কিন্তু লড়াই করে চলেছেন ‘বিতর্কিত’ বৈশাখী
কলকাতা: বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দেওয়া বহু চর্চিত একটি নাম৷ মন্ত্রিত্ব-মেয়র পদ যাওয়ার পর শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে কেউ কেউ তাঁকে ‘কালবৈশাখী’ও আখ্যা দিয়েছেন৷
কিন্তু, এই বৈশাখীর জীবনেও বয়ে গিয়েছে বহু কালবৈশাখী৷ স্রোতের প্রতিকূলে গিয়ে সেই বড় বড় ঝড় তিনি একাই সামলেছেন৷
চাকরি জীবনের শুরুতেই লড়াই শুরু হয় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ ২০০১ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তিনি৷ গঙ্গাসাগরের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় ন্যাশানাল স্কলারের চাকরি মেনে নিতে পারেননি৷ আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বৈশাখী৷ আদালতের রায় তাঁর পক্ষেই গিয়েছিল৷
এরপর কলকাতার মিল্লি অল আমিন কলেজে অধ্যাপনার চাকরি৷ কিন্তু, একজন হিন্দু মহিলা মুসলিম কলেজে পড়াবেন, তা অনেকে মানতে পারেননি৷ বৈশাখীর উপর চাপ সৃষ্টি হয়৷ বৈশাখীর সরাসরি অভিযোগ ছিল, প্রয়াত তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুলতান আহমেদের বিরুদ্ধে৷ তখন রাজ্যে শাসকের চেয়ারেও রয়েছে তৃণমূল৷ কিন্তু, পিছু হটেননি এই ন্যাশানাল স্কলার৷ ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং সেখানেও জয়ী হয়েছিলেন তিনি৷ জেতার পর ওই কলেজেই মাথা উঁচু করে ঢুকেছিলেন তিনি৷ এদিন যে কলেজ থেকে তাঁকে ‘কার্যত’ ঘাড়ধাক্কা’ দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তিনি আইনি লড়াই জিতে মিল্লি অল আমিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষার চেয়ারে বসেন৷
বন্ধু হিসেবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও কয়েকদিনে সমাজের একাংশের কাছে তিনি হয়ে গিয়েছেন ‘খলনায়িকা’৷ কিন্তু, তাতেও ‘কুছ পরোয়া নেহি’ বৈশাখীর৷
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করে বৈশাখী বলেন, ‘যিনি বিয়ের মধ্যে থেকে নিজের স্বামীকে ঠকালেন, তাঁর প্রতি সমাজের সহানুভূতি রয়েছে৷ অথচ একজন বিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে এটা ভাবতে পারিনি৷ আসলে আমরা এখনও মধ্যযুগে বাস করছি৷ এটা তারই প্রমাণ।"


No comments: