Politics

[Politics][bleft]

West Bengal

[West Bengal][grids]

World

[World][bsummary]

National

[National][twocolumns]

যেভাবেই হোক ধর্মঘটকে সফল করতেই হবে: সূর্য


 কলকাতা, ১৮ডিসেম্বর-- লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে বামেরা। তৃণমূল-বিজেপিকে একই বন্ধনীতে রেখে বাংলায় নিজেদের রাজনৈতিক মাটি ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। কর্মীদের চাঙা করতে একের পর এক কর্মসূচি নেওয়ার পাশাপাশি, আক্রমণাত্মক ভূমিকাতেও যাওয়ার কৌশলী পরিকল্পনা নিযেছে। আর মঙ্গলবার ধর্মতলার সমাবেশ থেকে সেকথার ইঙ্গিত দিলেন খোদ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র নিজেই। পরপর তিনটি কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর এখন যেনতেন প্রকারে ৮-৯ এর ধর্মঘট সফল করতে চাইছে বামেরা। কারণ এই ধর্মঘট সফল করতে পারলে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারবে। ধর্মঘট বিজেপির বিরুদ্ধে, তাই সফল হলে তাকে বিজেপির বিরুদ্ধে মানুষের সমর্থন বলে প্রচার করতে পারবে। একই সঙ্গে ধর্মঘট বিরোধী মমতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ধর্মঘট সফল হলে তাতে নিজে  রাজনৈতিক জয়ের প্রচার চালাবে।

 অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যদি বনধ ব্যার্থ করতে আসে তাহলে তাকে বিজেপির দোসর বলে প্র্চার করবে। তাই যেভাবেই হোক ধর্মঘটকে সফল করতে সূর্য মিশ্র বলেন, 'মোদী-মমতা জনগণের ওপরে যে আঘাত হানছে এবার তার প্রত্যাঘাত হানতে হবে। ৪৮ঘণ্টা রেল রাস্তা অফিস কারখানা সবকিছু স্তব্ধ করে দিতে হবে। দু’দিনই সকাল ৬টার আগে ঝান্ডার ডান্ডা শক্ত হাতে ধরে রাস্তায় নামতে হবে। জোর করে ধর্মঘট করার কথা বলছি না, কিন্তু কেউ জোর করে ধর্মঘট ভাঙার চেষ্টা করলে তার প্রতিরোধ করতে হবে।'
মঙ্গলবার আমডাঙার ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে বামফ্রন্ট। মিছিল শেষে সমাবেশ থেকে আমডাঙা প্রসঙ্গে রাজ্য প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সূর্য মিশ্র বলেন, 'প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে কলকাতা অবরোধ করে বসে থাকব।' তার অভিযোগ, তৃণমূলের  গুণ্ডাবাহিনী এবং পুলিশের মিলিত আক্রমণে ঘরছাড়া আমডাঙার বহু মানুষ। তাঁদের অনেকেই সিপিএম তথা বাম দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক। তাদেরকে ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতেে হবে প্রশাসনকে। নাা করলে আমাদেরই এর দায়িত্ব  নিতে হবে।

এরপরই সূর্য মিশ্র রাজ্যের এবং কেন্দ্রের সরকারকে আক্রমণ করেন। পকেটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রথমে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি’র পরাজয় দেখে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিপদকে ছোট করে দেখলে চলবে না।  সূর্য মিশ্রর দাবি, ‘পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে মানুষ প্রতিবাদ করেছেন এবং বিজেপি অপরাজেয় এই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। কিন্তু এরফলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে আপনা থেকেই বিজেপি সরকারের পতন ঘটবে এমন আত্মসন্তুষ্টির কোনও কারণ নেই। বিজেপি’র হাতে এখনও অনেক সাম্প্রদায়িক তাস আছে। ওরা যত বিচ্ছিন্ন হবে ততোই মরিয়া হয়ে আঘাত হানতে চেষ্টা করবে।’

সূর্যবাবু বলেন, এরাজ্যে বিজেপি’র বিপদ চলে গেছে ভাববেন না। তৃণমূলের সাহায্যে ওরা মেরুকরণ তীব্র করার চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে। সেই জন্যই রথযাত্রার বিষয়টা দুইপক্ষ মিলে এখনো জিইয়ে রেখেছে।' এই পরিস্থিতিতে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের তীব্র লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তায় জোর দিয়ে কর্মীদের চাঙা করতে তিনি বলেন, তৃণমূলের ভিতরে মারামারি দেখে রাজ্যবাসী উদ্বিগ্ন। কিন্তু ওরাও যদুবংশের মতো নিজে থেকে শেষ হয়ে যাবে ভেবে বসে থাকা চলবে না। আমরা বামপন্থীরা যদি বৃহত্তর অংশের মানুষকে সমবেত না করতে পারি তাহলে বেল পাকলে কাকের কী! তৃণমূল এবং বিজেপি’র মধ্যে মেরুকরণের মোহজালে আটকে থাকা মানুষকে ঠেলা মেরে আমাদেরকেই জাগাতে হবে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে, কিন্তু তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা যদি একইসঙ্গে মানুষকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিতে পারি তবেই তৃণমূল-বি জে পি’র বিপদকে রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।'

No comments: