বিজেপির রথযাত্রা ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে কোচবিহারে
কোচবিহার: গণতন্ত্র বাঁচাও রথকে নির্বিঘ্নে নিয়ে যেতে একের পর এক কেন্দ্র রাজ্য বিজেপির নেতারা কোচবিহারে আসতে শুরু করেছেন। মঙ্গলবার কোচবিহারে পৌঁছে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিজেপির রাজ্য সহ সভপাতি রাজু ব্যানার্জী। তিনি ছাড়াও এদিন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা তথা রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয় বর্গী সহ একঝাঁক নেতা কোচবিহারে আসছেন। সভার আগেই বাকি নেতাদের কোচবিহারে চলে আসার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এদিন রাজু ব্যানার্জী কোচবিহারে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, “খোদ মুখ্যমন্ত্রী থানায় থানায় নির্দেশ দিয়ে গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা বাধা দেওয়া চেষ্টা করছেন। তাই পুলিশ প্রশাসন কোন রকম অনুমতি দিচ্ছে না। উল্টে যে রাস্তা দিয়ে ওই যাত্রা করা হবে, সেই সব রাস্তায় তৃণমূলকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এভাবে গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা আটকানো যাবে না। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, কিছু দুষ্কৃতী দিয়ে আমাদের কর্মীদের উপড়ে আক্রমণ করছে, প্রচারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে রবীন্দ্রনাথ বাবু। কিন্তু ের আগে আমাদের মত্র সাইকেল র্যাালি আটকাতে পারে নি। এবারও পারবে না।৭ ডিসেম্বর কোচবিহার থেকে বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও রথ যাত্রা কর্মসূচী শুরু হবে। ওই রথযাত্রার উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত থাকবেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। ওই সভার অনুমতি নিয়ে প্রথম থেকেই জল ঘলা হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন নাটাবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের ঝিনইডাঙ্গা এলাকায় দলীয় এক কর্মীর চাষের জমিতে সভা করার সিধান্ত নিয়েছে বিজেপি। এদিন কৈলাস বিজয় বর্গীর মত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াও বেশ কয়েকজন রাজ্য নেতা কোচবিহারে এসেছেন। আগামী কাল মুকুল রায় ও সভার একদিন আগে দীলিপ ঘোষ কোচবিহারে আসবেন বলে জানা গিয়েছে। সভা ও রথ যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে স্থানীয় ও রাজ্য নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন কৈলাস বিজয় বর্গী। এরপর সমস্ত রিপোর্ট দিল্লীতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দেওয়ার পরেই তাঁদের সর্ব ভারতীয় সভাপতির কোচবিহারে আসার রুট নিয়ে সিধান্ত হবে বলে দলীয় সূত্রের খবর।প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ৭ ডিসেম্বর অমিত শাহ কোচবিহারে এসে প্রথমে মদনমোহন মন্দিরে পূজা দেবেন। এরপর কিছুক্ষন বিশ্রামের পর তিনি সভাস্থল ঝিনইডাঙ্গার দিকে যাবেন। সেখানে সভা করে গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা রথ চলতে শুরু করবে। প্রথমদিন সেই রথ কোচবিহার থেকে দিনহাটায় পৌঁছাবে। সেখানে রাত্রি যাপনের পর সকালে ফের রওনা হয়ে সিতাই শীতলখুচি হয়ে মাথাভাঙায় পৌঁছে রাত্রি বাস করবে ওই রথ। পরের দিন ফের মাথাভাঙা থেকে রওনা হয়ে কোচবিহার শহরে এসে পৌঁছাবে। কোচবিহার থেকে তুফানগঞ্জ, কামাখ্যাগুড়ি হয়ে আলিপুরদুয়ারে যাবে ওই রথ। গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, বিজেপি নেতৃত্ব আগে কোচবিহারে পৌঁছে তা নিয়েই পরিকল্পনা তৈরি করবে বলে জানা গিয়েছে।


No comments: