Politics

[Politics][bleft]

West Bengal

[West Bengal][grids]

World

[World][bsummary]

National

[National][twocolumns]

বিজেপি সরকার সংবিধান মানেনা, এরা সারা পৃথিবীতে হিন্দুত্বের জন্য ভিক্ষা করে: সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী

কলকাতা, 5 ডিসেম্বর: বিজেপির হিন্দুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী তথা রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। মঙ্গলবার ধৰ্মতলায় রানী রাসমণি রোডে সংগঠনের বিশাল জনসভায় তিনি বিজেপিকে এক হাত নেন। একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে সরকারে থেকে ভোট রাজনীতির স্বার্থে বিজেপি হিন্দুত্বের প্রচার করছে বলে মন্ত্রীর অভিযোগ। রাজ্য জমিয়তের প্রভাবশালী ওই নেতা বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন,আমি বললে একটু কষ্ট হবে,তবুও বলা ভালো, যাঁরা আজকে গেরুয়া নিয়ে আস্ফালন করছে,এরা ভিখারি,সারা পৃথিবীতে হিন্দুত্বের জন্য ভিক্ষা করে। আমেরিকায় ভিক্ষা করে, ইউরোপে ভিক্ষা করে, দুবাইয়ে ভিক্ষা করে, ইজরাইলের কাছে ভিক্ষা করে, তারা নাকি ভারত বর্ষের হিন্দুদের ঠিকেদার। আমারতো মনে হয় এরা ভারতীয় নয়, আমার মনে হয়না এরা সংবিধানের শফত নিয়েছে। আমার মনে হয়না তাদের দেশাত্মবোধের স্বপ্ন আছে।"

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বিজেপির ' নকল' হিন্দুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি 'বিজেপির হিন্দুত্ব মানিনা' বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। সভায় চৌধুরী সাহেব বলেন, রবীন্দ্রনাথ আন্তর্জাতিক কবি,তিনি হিন্দু ছিলেন নাকি ছিলেন না যে গেরুয়াদের জিজ্ঞেস করতে হবে তুমি আসল হিন্দু না,রবীন্দ্রনাথ আসল হিন্দু? কে বিচার করবে জিজ্ঞেস করছি। স্বামী বিবেকানন্দ হিন্দু। তাঁর লেখা পড়ুন,তাঁর রচনাবলী বিদ্বেষের উর্দ্ধে। আমি জিজ্ঞেস করি, আগে ঠিক করুন স্বামীজি বড় হিন্দু, তার ওজন বেশি নাকি আপনার কম। কে ঠিক করবে? কে ঠিকাদারি দিয়েছে? তারপরে ধরুন, এখানকার পুজো পার্বন, আসামের পুজো পার্বন,দক্ষিণ ভারতের পুজো পার্বন, সাঁওতালি ভাইদের পুজো পার্বন, ব্রাহ্মণ ভাইদের পুজো পার্বন, কত রং কত রূপ। কোন হিন্দুটা ঠিক কে ঠিক করবে জিজ্ঞাসা করতে চাই। এরা আসলে মানুষের মধ্যে দাঙ্গা,বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। আজকের সমাবেশ বন্ধনের সমাবেশ, ভাতৃত্বের সমাবেশ।

জমিয়ত নেতা বলেন,"আমাদের লড়াইতো সংবিধান নিয়ে। আগামীতে ভাবতে হবে এরা সংবিধান বিরোধী কিনা,দেশ বিরোধী কিনা।"
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তাতে খুশি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ পশ্চিমবঙ্গ। জমিয়তের ওই সভাপতি বলেন," মুখ্যমন্ত্রী সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যথেষ্ট সচেষ্ট এবং তিনি বাংলায় শান্তি শৃঙ্খলা রাখতে চাইছেন। সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনও জায়গা নেই। এই মনোভাব, প্রশাসনের মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না। একই সাথে বাংলার দাঙ্গা বিরোধী অমুসলিমদের সাধুবাদ জানাই।"
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় অনেক জায়গায় হিংসা ছড়ালেও বাংলায় হিংসা হয়নি বলেও চৌধুরী সাহেব মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়,'এটা বাংলা। এখানকার একটা ঐতিহ্য আছে। এখানে হিংসা, দাঙ্গা চলবে না।'

এদিন বিজেপির রথযাত্রার সমালোচনা করে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ধৰ্ম কর্ম করলে সমস্যা নেই। কিন্তু ছাপ্পান্ন ইঞ্চি এনে কিছু করলে এখানকার মায়েরা ঝাঁটা মারবে। বাংলায় হিংসা কোনও ভাবে বরদাস্ত নয়।
রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পিছনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলেও জানান  সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
কলকাতায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ডাকে চৌধুরী সাহেবের নেতৃত্বে সভা করলেই ভালো উপস্থিতি হত। কিন্তু তৃণমূলের টিকিটে ভোটে দাঁড়াবার পর বেশ কিছু জনসভায় তেমন লোক হয়নি বলে অনেকে মনে করেন। অনেকদিন পর এদিন বহু মানুষের উপস্থিতি দেখে তাই জমিয়ত নেতৃত্ব স্বভাবতই খুশি। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মুফতি আব্দুস সালাম বলেন, এই উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে, জমিয়ত দেশ ও জাতির সেবায় এখনও কাজ করে যাচ্ছে।
সভায় সর্ব ভারতীয় সম্পাদক মাহমুদ মাদানী আসার কথা থাকলেও আসতে পারেননি। এসেছিলেন সংগঠনটির সর্ব ভারতীয় সভাপতি মাওলানা উসমান মনসুরপুরী।
মাওলানা সাহেব বলেন,"এমন একটা ভারত বর্ষ বানাতে হবে যেখানে কোনও বিভেদ থাকবে না। আইনের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।"
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৌদ্ধ নেতা ডঃ অরুনজ্যোতি ভিক্ষু, নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসেমী প্রমুখ।

No comments: