সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েও ভয়ে যান?
যারা বুঝে উঠতে পারেন না জীবনের পরবর্তী ধাপের জন্য কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন কিংবা ভয়ের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েও থমকে যান, পেছনে ফিরে আসেন, তাদের জন্য এই লেখাটি। অন্যভাবে বললে, জীবনে দু’ রকমের মানুষ দেখবেন। এক হলো, যারা প্রবল আশাবাদী। কোনও রকম কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে এদের সময় লাগে না। যেকোনো ব্যাপারে খুব দ্রুত তারা সমাধানে চলে যেতে পারে। আরেক হলো চরম নৈরাশ্যবাদী। এদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে পড়তে হয় চরম বিপাকে। সামনে পা আগাবে, নাকি আগাবে না- এটা ঠিক করতে করতেই তাদের সময় পার হয়ে যায়। ভয়কে তারা কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারে না। কেন এই ভয় কাজ করে? এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? চলুন এসব প্রশ্নের উত্তর জেনে নেয়ার চেষ্টা করা যাক।
প্রথমেই জেনে নেয়া যাক ‘ভয়’ জিনিসটা কী। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ভয় দুই প্রকার। একটি হলো আমাদের পারিপার্শ্বিক কোনো বিষয়ের প্রতি ভয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাসায় আগুন লেগে যাওয়ার ভয়, চুরি হবার ভয়, রাস্তায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার ভয় কিংবা কেউ হঠাৎ আক্রমণ করে বসে কি না, সেই ভয়। আবার অজানা কিংবা অলৌকিক কোনো কিছুর প্রতি ভয়ও এর মধ্যে পড়ে। এখানে তো কেবল বিপজ্জনক ঘটনার কথা বলা হয়েছে। আরেকটি ধরন হলো, যেটি এগুলোর মতো কোনোদিক থেকেই বিপজ্জনক না। কিন্তু তবুও বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের ভয় কাজ করে। যেমন ধরুন, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া, প্রেজেন্টেশনের জন্য সবার সামনে দাঁড়ানো, চাকরির ইন্টারভিউ দেয়া। এই বিষয়গুলো এমন না যে আমাদের অনেক বড় রকমের ক্ষতি করে ফেলবে। কিন্তু তবুও মুহূর্তগুলোকে ঘিরে আমাদের অনেকেরই ভয় কাজ করে। কিন্তু কেন?
মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো অজানাকে ভয় করা। একটি অন্ধকার ঘরের কথা চিন্তা করুন। স্বাভাবিকভাবেই আপনি সেই ঘরে পা ফেলতে ভয় করবেন, কারণ আপনি জানেন না আপনার সামনে কী অপেক্ষা করছে। তাই অজানাকে ভয় করা অস্বাভাবিক কিছু না। আদিম যুগে মানুষের মনে ভয় কাজ করতো শিকার ধরা নিয়ে কিংবা যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়ে। সেখানে সবসময়ই জীবননাশের ভয় কাজ করতো কিংবা কোনো শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকতো। বর্তমানে সেই ভয় অনেকের মন থেকেই চলে গেলেও জায়গা করে নিয়েছে নতুন ধরনের ভয়- ‘উদ্বেগ’। সিদ্ধান্ত নিতে না পারার পেছনে যে সমস্যাটি মূলত কাজ করে, তা হলো উদ্বেগ। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ থেকে কোনোভাবেই রক্ষা পাওয়া যায় না। তাহলে কী করবেন এ থেকে পরিত্রাণের জন্য? চলুন জেনে নিই কিছু উপায়।
- আগে নিজের এবং সমস্যার ব্যাপারে জানুন
- আপনার সমস্যাটি নিয়ে কারো সাথে কথা বলুন
- নিজের শরীরের দিকে নজর রাখুন
অ্যালকোহলজাত পানীয় এবং সিগারেট ও অন্যান্য মাদক থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন। এগুলো আপনাকে সাময়িকভাবে বর্তমান সমস্যা ভুলে থাকতে সাহায্য করলেও সমস্যা সমাধানের কোনও মাধ্যম এগুলো হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে এগুলো আপনার জন্য নতুন সব সমস্যা তৈরির পেছনে কাজ করে। তাই নিজেকে যতটা সম্ভব মাদক থেকে বিরত রাখুন। নিয়মিত ব্যায়াম করাও এক্ষেত্রে অনেকখানি উপকারী।
- নিজের একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখুন
Labels:
Entertainment


No comments: