ডায়াবেটিস রুখতে গান!
গান গাইতে না জানলেও গান শুনতে ভালোবাসেন মোটামুটি সবাই। মনের চাপ কমাতে সুরের একটা বিরাট ভূমিকা আছে - এ কথা মেনে নিয়েছেন পৃথিবীর প্রায় সব দেশের চিকিত্সক গবেষকরা। স্ট্রেস, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের প্রবণতা কমাতে ইদানীং কিছু কিছু চিকিত্সক স্লোগান তুলেছেন - 'Stop Drug, Start music'। হ্যাঁ, গবেষণায় প্রমাণিত যে, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ রুখতে সর্বোপরি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঙ্গীতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি মাতৃগর্ভে থাকা শিশুও সুর-বেসুরের তফাত ধরতে পারে ১৮ সপ্তাহ বয়স থেকেই। তাই মিউজিক থেরাপিস্টদের পরামর্শ, ডায়াবেটিক হবু মায়েদের রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনের শুরুতে ও শেষে ১০-১৫ মিনিট গানবাজনা শোনা ভালো।
শুধু ডায়াবেটিক মায়েরাই নন, রক্তে চিনির মাত্রা যথাযত রাখার জন্য সর্বোপরি স্ট্রেস, টেনশন, অ্যাংজাইটি কমাতে নিয়ম করে ভৈরবী, আশাবরি, বাগেশ্রীর সাথে সাথে শুনতে পারেন মৃদুলয়ের আধুনিক গান। যেকোনো পছন্দের রবীন্দ্রসঙ্গীত অথবা মেলোডিয়াস সিনেমার গান। কিন্তু এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, পপ সঙ্গীত বা উদ্দাম জ্যাজ সাময়িক আনন্দ দিলেও শরীরের কোষে কোষে ছড়িয়ে দেয় উত্তেজনা। স্ট্রেস হরমোন যেমন কর্টিজন আর অ্যাড্রিনালিন-এর নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এর সঙ্গে যদি জ্যাজ সঙ্গীতপ্রেমীরা ধূমপায়ী বা মদ্যপায়ী হন, তাহলে তার ফল হয় আরো মারাত্মক।
ব্যাঙ্গালোর মেডিক্যাল কলেজ ও NIMHANS-এর একদল গবেষক সমীক্ষা করে দেখেছেন, যারা নিয়মিত ডিস্কোতে যান এবং ধূমপান ও মদ্যপান করেন, তাদের মধ্যে ৪০-৪৫ বছর বয়সে হঠাত্-মৃত্যুর হার বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৫%-২৫%। তবে এর মধ্যে একটা ছোট্ট অংকের হিসেব আছে। সঙ্গীতের তাল প্রতি মিনিটে ৪০-৬০-এর মধ্যে থাকলে তবেই স্ট্রেস, টেনশনসহ নানা শারীরিক সমস্যা রুখে দিতে পারে। কিন্তু এই তাল বেড়ে যদি ৮০-৯০ প্রতি মিনিট হয় তাহলে টেনশন, হার্টবিট, স্ট্রেস সবই বেড়ে যায়। আর ছন্দ বাড়তে বাড়তে যদি ১০০-র বেশিতে পৌঁছয়, তাহলে বিভিন্ন স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণের হার বেড়ে যায় হু হু করে। এই ধরনের গানবাজনা ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ যেকোনো অসুখই বাড়িয়ে তোলে। এমনকি গর্ভবতী মা যদি এই ধরনের গান শোনেন তাহলে তার গর্ভপাতেরও আশঙ্কা থাকে!
সান ফ্রান্সিসকোর প্যাসিফিক মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিত্সকরা জানিয়েছেন যে, টুইংকেল টুইংকেল লিটল স্টারের বা মোত্জার্ট সুরারোপিত হিকোরি ডিকোরি ডকের মৃদু স্বর সদ্যোজাত শিশুদেরও খুব পছন্দের। এ সুর শুনে ভালো থাকতে পারে জুভেনাইল ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুরাও।
Labels:
Entertainment


No comments: