বিভিন্ন দেশে্র ধর্ষণের শাস্তির আই
পৃথিবীর অনেক দেশেই ধর্ষণের সাজা মারাত্মক কঠিন। চলুন জেনে নেই এমনই কিছু দেশে ধর্ষণের শাস্তির আইন সম্পর্কে।
ভারত
২০১৩ সালে ধর্ষণবিরোধী আইন পাশের পর থেকে ভারত ধর্ষণের শাস্তি আগের চেয়ে আরও কঠোর করেছে। ধর্ষককে সাজা হিসেবে ৭ বছর থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বিরল হলেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ধর্ষককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আইন রয়েছে।
গ্রিস
গ্রিসে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার একমাত্র শাস্তি আগুনে পুড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড।
চিন
চিনে ধর্ষণের শাস্তি নিয়ে কোনও টালবাহানা নেই। সেখানেই ধর্ষণের শাস্তি বলতেই সরাসরি মৃত্যুদণ্ড। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে ধর্ষকের যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়।
ইরান
ইরানে সাধারণত ধর্ষককে জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কোনও ক্ষেত্রে যদি ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি অনুমতি দেন তবে অপরাধী মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে পারে। তবে সেক্ষেত্রেও ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
নেদারল্যান্ডস
যে কোনও ধরনের যৌন নিপীড়ন, এমনকি অনুমতি ছাড়া জোর করে চুম্বন করাও নেদারল্যান্ডসে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। এর শাস্তি হিসেবে অপরাধীকে বয়সের উপরে ভিত্তি করে ৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। যৌনকর্মীদের উপরে যৌন নির্যাতনের বিষয়টিকে বেশিরভাগ দেশে অপরাধ হিসেবে খুব একটা আমল দেওয়া হয় না। কিন্তু নেদারল্যান্ডসে এক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি অন্তত ৪ বছরের কারাদণ্ড।
ফ্রান্স
ফ্রান্সে ধর্ষণের শাস্তি অন্তত ১৫ বছরের কারাদণ্ড, সঙ্গে শারীরিক নির্যাতন। ভিকটিমের ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার উপরে নির্ভর করে ধর্ষকের সাজা। ৩০ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ড পর্যন্তও করা হতে পারে।
আফগানিস্তান
আফগানিস্থানে ধর্ষণের শাস্তি রায়ের চার দিনের মধ্যে কার্যকর করা হয়। আর শাস্তিটি হল ধর্ষকের মাথায় গুলি করে মৃত্যুদণ্ড।
উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া ধর্ষণের বিচার বা শাস্তির জন্য বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করে না। সেখানে ধর্ষককে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে মাথায় গুলি করে মারা হয়।
রাশিয়া
রাশিয়ায় ধর্ষণের শাস্তি কমপক্ষে ৩ বছরের কারাদণ্ড। ভিকটিমের ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার উপরে নির্ভর করে ধর্ষকের সাজা বাড়িয়ে ৩০ বছর পর্যন্ত করা হতে পারে।
সৌদি আরব
সৌদি আরবে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে রায় ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই জনসম্মুখে শিরচ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহ
সংযুক্ত আরব আমিরশাহতে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের সাজা সরাসরি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড। অপরাধ প্রমাণের ৭ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড।
নরওয়ে
নরওয়েতে ধর্ষকের সাজা ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির ক্ষতির পরিমাণের উপরে নির্ভর করে ৪ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড।ইজরায়েল ইজরায়েলে ধর্ষক ব্যক্তি ন্যূনতম ৪ থেকে সর্বোচ্চ ১৬ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে থাকে।
মিশর
মিশরে ধর্ষককে বরাবরই যে কোনও জনাকীর্ণ এলাকায় জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যেন অন্যরা সেটি দেখে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
Labels:
Entertainment

No comments: