সকাল থেকে পড়ে মায়ের নিথর দেহ, ফিরেও তাকালো না ছেলে মেয়ে
ডিএনএ বাংলা ডেস্কঃ প্রবাদে আছে ভাগের মা গঙ্গা পায় না।আর এই প্রবাদ বোধ হয় নিয়তি দত্তর ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি খাটে । উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের নিয়তি দত্তর দেহ ভোররাত থেকে নিথর হয়ে পড়ে রইল, আর তা নিয়ে চাপান-উতোর চলল দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে। তাঁর মৃত্যু হয়েছে নাকি তিনি অসুস্থ, তা দেখার জন্য চিকিৎসক পর্যন্ত ডাকা হল না। শেষে এলেন পঞ্চায়েত সদস্য, ডাকা হল পুলিশ।
একটি জমির উপরে বাড়িতেই থাকেন স্বপ্না দাস, আশিস দত্ত ও কমল দত্ত — নিয়তির তিন ছেলেমেয়ে, কিন্তু তাঁদের মধ্যে বনিবনা নেই। অসুস্থ নিয়তি থাকতেন স্বপ্নার কাছে। স্বপ্নার অভিযোগ, তিনি নিজে না খবর দিলেও, খবর পেয়েছিলেন তাঁর দুই ভাই, কিন্তু তাঁরা মাকে দেখতে পর্যন্ত আসেননি, তাই বাধ্য হয়েই পঞ্চায়েত সদস্যকে ডাকেন। তাঁর স্বামী থাকেন বাইরে, ছেলে ছোট। পঞ্চায়েত সদস্য সুব্রত বিশ্বাস বলেন, “সবার আগে দরকার ছিল চিকিৎসককে ডাকা। ভোর থেকে বেলা দুটো পর্যন্ত একজন নিথর হয়ে পড়ে রইলেন অথচ ডাক্তার ডাকা হল না, এমন কথা কোনও দিন শুনিনি।”
স্বপ্নার ছেলে শুভর বয়ান অনুযায়ী, সে সকাল সাতটায় উঠে ঘটনার কথা জানতে পারে। ততক্ষণে তার দুই মামা, অর্থাৎ আশিস ও কমলের কাছে খবর পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর মায়ের কাকা। কিন্তু সেই খবর শুনেও তাঁরা আসেননি। বুধবার সকাল থেকেই আমিন ও শ্রমিকরা এসে জমি মেপে বাড়িতে বেড়া দেওয়ার কথা ছিল। নিয়তি মারা গেছেন বলে রটে যাওয়ার পরেও ভাইয়ে-ভাইয়ে সম্পত্তি বণ্টনের কাজ চলতে থাকে পুরোদমে। আশিস বলেন, “মা কয়েক মাস ধরে অসুস্থ। আমি চিকিৎসা করাতে চাইলেও আমাকে বাধা দেওয়া হয়।
সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে গেলেও চিকিৎসক ডাকা হয়নি।” উল্টে আশিস বলেন, তাঁর মাকে নিয়মিত মারধর পর্যন্ত করা হত। তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হত না। কিন্তু কেন তিনি মাকে দেখতে যাননি সকাল থেকে? প্রতিবেশীরা যখন বলছেন নিয়তি দত্ত মারা গেছেন, তখনও কেন জমিতে বেড়া দেওয়া চলতে থাকল? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। রায়গঞ্জ শহর লাগোয়া সোহারই মোড় এলাকার বুধবারের এই ঘটনা এলাকার লোকজনকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। নিয়তির স্বামী মারা গেছেন বছর সাতেক হয়েছে।
বুধবার ভোররাতে তাঁকে নড়াচড়া করতে না দেখে স্বপ্না খবর দেন তাঁর কাকা ও প্রতিবেশীদের। তাঁরা এসে জানান মারা গেছেন নিয়তি। কিন্তু একজন চিকিৎসকই বলতে পারেন তিনি মারা গেছেন কিনা বা চিকিৎসা দরকার কিনা। অভিযোগ, কোনও চিকিৎসককে ডাকাই হয়নি।

No comments: