Politics

[Politics][bleft]

West Bengal

[West Bengal][grids]

World

[World][bsummary]

National

[National][twocolumns]

বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা!



চন্দ্রাবলী:

বৃদ্ধ বয়সে প্রেম ভীমরতি! এমনটাই মানে দেশের মানুষ। তাই যখন বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা তখন মানুষের আগ্রহ বেশি! কিন্তু গবেষণা অন্য কথা বলছে, বুড়ো বয়সে বিয়ে মানে অক্সিজেন!

বৃদ্ধ বয়সে শ্রবণশক্তি কমে আসে।স্মৃতি হারাতে থাকে। বিষণ্নতা দেখা দেয় ধীরে ধীরে। শারীরিকভাবেই অকর্মন্য ভাব চলে আসে। সামাজিকভাবেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে থাকে মানুষ। উচ্চ রক্তচাপও দেখা দেয়। আরও কত সমস্যা এসে ভর করে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসব তুলনামূলকভাবে কমিয়ে রাখতে পারে বিবাহিত জীবন। হ্যাঁ, ব্রিটেনের লগবোরোহ ইউনিভার্সিটি তাদের এক গবেষণায় একথা জানিয়েছেন।বুড়োদের নানা রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে বিবাহিত জীবন।এই গবেষণা থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে, বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধনই না। সুস্থ থাকতেও বিয়ের রয়েছে প্রয়োজনীয়তা। সেটা যে বয়সে হোকনা কেন।




বুড়ো বয়সে প্রেমের ইতিহাস কম নয়! ৩৪ বছরের আর্জেন্টাইন ওকাম্পো ভিক্টোরিয়া প্রেমে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। সেই প্রসঙ্গে আসি---

‘আমার বাবার বয়সের কাছাকাছি তাঁর বয়স। অথচ কপালে ভাঁজ পড়েনি। একটিও রেখা চোখে পড়ে না। কী শান্ত লাবণ্যময় তাঁর হিরণবর্ণ দেহ। শুভ্র কেশগুচ্ছ উপচে পড়ছে তাঁর দৃঢ় সুগঠিত গ্রীবা পর্যন্ত। তাঁর দীপ্ত মুখমণ্ডল, ঘন আঁখিপল্লব, তাঁর বাঙ্ময় দুটি হাত—মানুষটির সান্নিধ্যে আসায় সমস্ত শরীর অবশ হয়ে এল।’ আদরের উপবাস বইয়ে রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এভাবে প্রায় উপন্যাসোপম করে তুলেছেন দুজনের সম্পর্ককে।




পাবলো পিকাসোর কথায় ধরুন। জগদ্বিখ্যাত স্প্যানিশ চিত্রকর পাবলো পিকাসো এসবের তোয়াক্কা করেননি। তিনি ৬৪ বছর বয়সে ফ্রাঁসোয়া জিলো নামের ২১ বছর বয়সী এক মেয়ের সঙ্গে দিব্যি সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ে না করলেও তাঁরা দুটি সন্তান নিয়েছিলেন। সন্তানদের স্বীকৃতিও দিয়েছিলেন পিকাসো। এখানেই শেষ নয়, পিকাসো ৭০ বছর বয়সে আবার প্রেমে পড়েছিলেন জেনেভিয়েভ লাপোর্ত নামে ২৪ বছর বয়সী আরেক ফরাসি যুবতীর।




আবার সাহিত্যিক ভ্লাদিমিরও বয়সের বাধা মানতেন না। ভ্লাদিমির নবোকভের বিখ্যাত উপন্যাস লোলিতা ১৯৫৫ সালে প্যারিসে এবং ১৯৫৮ সালে নিউইয়র্কে প্রকাশের পর এটিকে অশ্লীলতার দায়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বিষয় সেই অসম সম্পর্ক। যদিও তা কোন ভাবেই প্রেম পর্যায়ের ছিল না। বিকৃত মনের হামবার্টের কাহিনী মাত্র।




তবে, যারা মনে প্রাণে ভালো মানুষ। সময়ের অভাবে হয় তো বিয়ে করার সময় পান নি। তাদের কাছে তরুণী ভার্যা যেন চোখে হারায় সে। তরুণী ভার্যার বশ হয়ে যায় সে। সে সময় তার মনে হয়-- সময় কোথা সময় নষ্ট করবার !
সে বলে-- বৃদ্ধ হলেই বা, এখনও তো জীবনের ঘ্রাণ পাই...

তার কাছে বয়স মানে সময় অতিক্রান্ত। বয়স তার কাছে একটা সংখ্যা মাত্র।  বয়স সত্তর, কিন্তু মনে কুড়ি। বাকিটা অভিজ্ঞতা!!!

No comments: