বিবিধ ভারতী-ঝুমরি তিলাইয়
ডিএনএ বাংলা ডেস্কঃ আকাশবাণী বিবিধ ভারতী বিভাগে বস্তা বক্তা চিঠির একটাই ঠিকানা-ঝুমরি তিলাইয়া। তখনকার বিহার আর গত কুড়ি বছর ধরে ঝাড়খণ্ডের এই ছোট্ট গঞ্জ বা আধা শহর অথবা ছোট জনপদের দেশজোড়া পরিচয়। এখন চিঠি পাঠায় কে, অ্যাপ ডাউনলোড করেই তো চাহিদা মেটে। ফল-নির্বাচনী প্রচার পত্র হু হু করে উড়ছে। আর সেই নষ্টালজিক বিবিধ ভারতীর প্রেমিকা ঝুমরির হাসি হয়েছে ম্লান। ঝুমরি তিলাইয়া-নামেই যার পরিচয় ভারতের সর্বত্র। রেডিওর বিবিধ ভারতী অনুষ্ঠানের গান শুনতে চেয়ে রোজ শ’য়ে শ’য়ে চিঠি পাঠানোর লোক কমে এসেছে। ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের রং চড়ছে চড় চড় করে।
সেই রংয়ের দুনিয়ায় স্বতন্ত্র নয় ঝুমরি তিলাইয়া। তবুও তার বিশেষ পরিচয়টি অস্বীকার করা যায় না। এই আলোছায়া মাখা চরিত্র নিয়েই আত্ম গরিমায় উদ্বেল স্থানীয় বাসিন্দারা। লিখে যো খত তুঝে …তেরি ইয়াদ মে…কমতে কমতে চিঠি লেখার লোকের সংখ্যা হাতে গোনা। তবুও ঝুমরি তিলাইয়ার ডাক ঘরে চিঠির উপর কালো মোহর দিয়ে চলেন পোস্ট অফিসের বড় বাবু। মজার কথাটা হল, এখনকার ঝাড়খণ্ড একসময়ের বিহারের কোডারমা জেলার ঝুমরি তিলাইয়া কি কল্পনার দেশ? উঠেছিল এমনই প্রশ্ন৷ আরও পড়ুন- শীতে আপনার ভ্রমণ গন্তব্য হোক ছবির মতো সুন্দর এই জায়গা বিবিধ ভারতীর সন্ধের অনুষ্ঠান মানেই ঝুমরি তিলাইয়া থেকে অনুরোধ৷ ঘোষক-ঘোষিকা বলছেন, ‘ঝুমরি তিলাইয়া সে ইয়ে গানা ফরমাইশ কিয়ে… ‘ গান শুনতে শুনতে কখন যেন কোডারমার সুন্দর এলাকাটি শ্রোতাদের মনে কল্পনার রাজ্য হয়ে উঠেছিল সেটাই চমকে দেওয়া বিষয়। আকাশবাণীর অনুষ্ঠানের মধ্যে ১৯৫০ সাল থেকে সর্বাধিক জনপ্রিয় বিবিধ ভারতী। সেই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই প্রচুর গান শোনানোর চিঠি পাঠাতেন শ্রোতারা৷
চিঠির সেই ঝাঁপিতে বেশিরভাগই ঝুমরি তিলাইয়ার ঠিকানা৷ পরিস্থিতি এমন হয় চিঠি পাঠানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় সেখানে৷ ছড়িয়ে পড়ে সেই নেশা৷ কোডারমা জেলায় বরাকর নদের উপর বিখ্যাত তিলাইয়া বাঁধ সেই থেকেই ঝুমরি তিলাইয়া নাম৷ ১৯৫০ দশকে সেই নিস্তরঙ্গ জীবনে ঝুমরি তিলাইয়াবাসীর কাছে বিবিধ ভারতীর গানের অনুষ্ঠান মানেই অবসর৷ ১৯৯০ দশকের পর থেকে টিভির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে৷ তারপরে এখন মোবাইলের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকা প্রজন্ম। গানের হাজার খানেক ওয়েবসাইট, নিত্য নতুন অ্যাপে ভরপুর মোবাইল সেট। কে লিখবে চিঠি। ঝুমরি তিলাইয়া আছে- সুরেলা হিন্দি গানও আছে, শুধু নষ্টালজিক অনুষ্ঠানটাই তেমন শোনার লোক কম।
Labels:
Entertainment

No comments: