মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বার্তা রাজ্যপালের
ডিএনএ বাংলা ডেস্কঃ শুক্রবার যেন কিছুটা নমনীয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এ দিন বিধানসভায় বিআর আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিতে এসে তিনি জানিয়েছেন, যেখানে বসে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে চাইবেন মুখ্যমন্ত্রী, সেখানে হাজির হয়ে যাবেন তিনি। এ ব্যাপারে অবশ্য এখনও পর্যন্ত সরকারি তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্যপাল জানান, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, “মঙ্গলবারের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।
নবান্ন, রাজভবন, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর ঠিক করে দেওয়া যে কোনও নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে বৈঠক করতে আমি প্রস্তুত। কারণ সংবিধানে আলোচনাই সমাধানের একমাত্র পথ।” সংবাদমাধ্যমের খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করে রাজ্যপাল বলেন, “অধ্যক্ষের (বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে গতকাল আমার কথা হয়েছে। অধ্যক্ষ জানিয়েছিলেন, তিনি বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটির বৈঠকে ব্যস্ত থাকবেন, তাই দেখা করতে পারবেন না। অধ্যক্ষ আমাকে বলেননি যে ‘আপনি বিধানসভায় আসবেন না।’
তাঁর অফিস থেকে জানানো হয়েছিল যে, অধ্যক্ষ থাকতে পারবেন না। কিন্তু কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম কিছু বিভ্রান্তিকর খবর করেছে।” বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যপাল পৌঁছে গেলেও তাঁর জন্য নির্ধারিত ফটক বন্ধই ছিল। ১৮ মিনিট অপেক্ষা করার পর তিনি কর্মীদের ঢোকার ফটক দিয়ে হেঁটে বিধানসভায় ঢোকেন। তার আগে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তারপরেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব তথা রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
গণপ্রহার সংক্রান্ত বিল সই না করা প্রসঙ্গে রাজ্যপাল জানান, পেশ করার আগে তাঁকে দিয়ে যে বিলে সই করানো হয়েছিল, পাস হওয়া বিলের সঙ্গে তার পার্থক্য রয়েছে, তাই তিনি সই করেননি। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিলেন বিলের মেমো নম্বর নিয়ে। তাতেই কার্যত সিলমোহর দেন রাজ্যপাল। এ দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজ্যপালের নাম না করেই বলেন, “রাজ্যে সমান্তরাল প্রশাসন চালানো হচ্ছে।”
এর প্রেক্ষিতেই রাজ্যপালও জানতে চান, তাঁর কোন আচরণ সংবিধানের পরিপন্থী, সেকথা তাঁকে জানানো হোক। এই বিল সই প্রসঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিধানসভায় যে বিল পাস হয়েছে, রাজ্যপাল হয় তাতে সই করুন, না হয় ফেরত পাঠান। সরকার তখন যা করণীয় তাই করবে। কিন্তু রাজ্যপাল বিল ফেরত না পাঠিয়ে তা ফেলে রেখে দিয়েছেন।

No comments: